
নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণকে ঘিরে ক্ষতিপূরণের মূল্য নির্ধারণে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।এঘটনার প্রতিকার চেয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক আব্দুল জলিল।
তিনি দাবি করেছেন, বাণিজ্যিক জমি ও তিনতলা মার্কেট ভবনের মূল্য বাস্তব বাজারদরের তুলনায় অনেক কম নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আপত্তি জানিয়ে ন্যায্য মূল্য পুনর্নির্ধারণের আবেদন করেছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এলএ কেস নম্বর ০৬/২০২৪-২৫ (জারি নং ৪১২, ৪১৩, ৪১৪ ও ৪১৫)-এর আওতায় “সাতক্ষীরা–সখিপুর–কালীগঞ্জ (জেড-৭৬০২) এবং কালীগঞ্জ–শ্যামনগর–ভেটখালী (জেড-৭৬১৭) মহাসড়কের ইন্টারসেকশন নির্মাণ” প্রকল্পের জন্য তাঁর ০.৬৪৫ শতক বাণিজ্যিক জমি এবং এর ওপর নির্মিত তিনতলা মার্কেট ভবন অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে তাঁকে জানানো হয় যে, ২০২৩–২৪ সালের মৌজাভিত্তিক মূল্য অনুযায়ী জমির দাম প্রতি একর ৭ কোটি ৬০ হাজার ২৬০ টাকা এবং ভবনের অবকাঠামোগত ক্ষতিপূরণ ৪১ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৫ টাকা ২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে আবেদনকারীর অভিযোগ, এই মূল্য বর্তমান বাজারদর ও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষ্য, সাতক্ষীরা শহরের বনানী মার্কেট, নিউ মার্কেট ও লাবণী মোড়সংলগ্ন এলাকায় একই সময়ের বাণিজ্যিক জমির প্রকৃত মূল্য প্রতি একর ১০ কোটি ৫৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা হওয়া উচিত। একই সঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রচলিত রেট শিডিউল এবং বর্তমান নির্মাণসামগ্রীর বাজারদর বিবেচনায় তাঁর তিনতলা, প্রতি তলায় প্রায় ৩০৩০ বর্গফুট আয়তনের ভবনের মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা হওয়ার কথা বলে তিনি দাবি করেছেন।
আবেদনকারী আরও অভিযোগ করেন, একই প্রকল্পে পাশের একটি দাগে অবস্থিত ২.৯৮ শতক জমির ওপর কামরুল ইসলাম বুলুর তিনতলা ভবনের অবকাঠামোর মূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তাঁর পাশে নিজের ০.৬৪৫ শতক জমির ওপর নির্মিত তিনতলা ভবনের অবকাঠামোর মূল্য মাত্র ২৬ লাখ ১৭ হাজার ১৫৯ টাকা ৯৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া শহরের রক্সি হলের মালিক তাহাজ্জেদ , আহাজ্জেদ ও মো. ফজলুল করিম সাগরের সিনেমা হল বিশিষ্ট ভবনের ক্ষতিপূরন ধরা হয়েছে ৪১ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৫ টাকা যা কামরুল ইসলাম বুলুর তুলনায় অনেক কম । তাঁর দাবি, একই ধরনের ভবনের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য অযৌক্তিক এবং বৈষম্যমূলক আচারণ করেছে সাতক্ষীরা গনপূর্ত ভবন ।
আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান বাজারে রড, সিমেন্ট, ইট, পাথরসহ নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য সরকারি প্রাক্কলনের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণে সমমানের ভবন পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে না এবং তিনি গুরুতর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
এ অবস্থায় আবেদনকারী জেলা প্রশাসকের কাছে বাণিজ্যিক জমির মূল্য, ভবনের নির্মাণশৈলী, ব্যবহৃত উপকরণের বর্তমান বাজারদর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বশেষ রেট শিডিউল বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণ পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জানিয়েছেন।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
