Breaking News

তালায় সরিষা আবাদে বাম্পার ফলনের আশায় কৃষক

Spread the love

জহর হাসান সাগর : তালা উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এবার সরিষা আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। অন্য বছরের তুলনায় এবছর সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে।

তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,চলতি বছরে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯১ হেক্টর জমিতে। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কৃষি বিভাগ মনে করছে, সকল রেকর্ড ভেঙে এবছর এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে সরিষা আবাদ।

সরেজমিনে দেখা যায়, তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সরিষা ফুলের হলুদ রঙে রাঙানো। যতদূর চোখ যায়, শুধু হলুদ ফুলের সমারোহ। সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির গুনগুন শব্দ প্রকৃতিকে করে তুলেছে আরও প্রাণবন্ত। পড়ন্ত বিকেলে গ্রামীণ নারীরা ব্যস্ত থাকছেন ছবি তুলতে, আর তরুণদের দল মনোরম পরিবেশে সময় কাটাচ্ছে সরিষা ক্ষেতের পাশে।

কৃষকরা জানান, এবছর আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকায় সরিষার বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। মাঝেমধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে সামান্য ক্ষতি হলেও বর্তমানে মাঠজুড়ে ফুলে ফুলে ভরে গেছে সরিষা গাছ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও হবে বাম্পার।

কৃষক আবু তাহের বলেন, সরিষা চাষে খরচ কম, পরিশ্রমও কম। এবার আবাদ ভালো হয়েছে। অল্প কিছুদিন পরেই ফুল ঝরে দানা আসবে। সব ঠিক থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।”
তিনি আরও জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় ঝুঁকি কম হওয়ায় অনেক কৃষক এবার সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকেছেন।

উপজেলার একাধিক সফল কৃষক জানান, দেশের ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষা আবাদ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে রোপা আমন ও বোরো ধানের মধ্যবর্তী সময়ে স্বল্প জীবনকালীন সরিষার জাত নির্বাচন করলে একই জমি থেকে অতিরিক্ত ফসল পাওয়া সম্ভব।

সাতক্ষীরা তথা উপকূলীয় অঞ্চলে এবছর বিভিন্ন উন্নত জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
বারি সরিষা-৯, ১৪, ১৫ ও ১৭ এবং বিনাসরিষা-৪, ৯ ও ১০। এসব জাতের সরিষায় তেলের পরিমাণ বেশি, জীবনকাল কম এবং হেক্টরপ্রতি ফলন তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, চলতি মৌসুমে তালা উপজেলায় ১ হাজার ৯১ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সরিষা চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়েছে। সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা কৃষকদের প্রদান করা হবে। সব মিলিয়ে, হলুদ ফুলে ভরে ওঠা তালার মাঠ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়—কৃষকের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় এখন দিন গুনছেন কৃষকেরা।

About dainiksatkhira24

Check Also

একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু: তালায় আর্সেনিকের ভয়াবহ থাবা

Spread the loveজহর হাসান সাগর: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকাটি গ্রামে আর্সেনিক দূষণ ভয়াবহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com