Breaking News

অবিবাহিত সেজে যুবককে জোরপূর্বক বিয়ে করলো ৫ বছরের সন্তানের মা, প্রতিকার চেয়ে আদালতে যুবক

Spread the love

জহর হাসান সাগর:
ভালবাসার অভিনয়, তথ্য গোপন এবং অবশেষে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক কাবিননামায় স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগে খুলনার রূপসা সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রতারণার শিকার মো. সাব্বির হোসেন নামে এক যুবক বাদী হয়ে সম্প্রতি এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় ১নং আসামি করা হয়েছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গদাইপুর গ্রামের কারিমা খাতুনকে এবং ২নং আসামী করা হয়েছে স্থানীয় নিকাহ রেজিস্ট্রারকে।

মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা ও বর্তমানে রূপসার বাধাল এলাকায় বসবাসরত মো. সাব্বির হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয় সাতক্ষীরার কারিমা খাতুনের। কারিমা নিজেকে অবিবাহিত (কুমারী) দাবি করে সাব্বিরের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত ১লা এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিয়ের কথা বলে সাব্বিরকে আশাশুনি উপজেলার ৯নং আনুলিয়া ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রারের দপ্তরে ডেকে আনা হয়।

সেখানে গিয়ে সাব্বির দেখতে পান, কনেপক্ষের সাথে বেশ কিছু অপরিচিত যুবক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি উপস্থিত। রেজিস্ট্রেশনের সময় আইডেন্টিটি কার্ড চেক করতে গিয়ে দেখা যায়, কারিমা খাতুন সাব্বিরের চেয়ে বয়সে ৫-৬ বছরের বড়। এই অসঙ্গতি দেখে সাব্বির বিয়েতে অসম্মতি জানালে উপস্থিত গুন্ডা প্রকৃতির লোকজন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং জোরপূর্বক কাবিননামায় স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।

আরজিতে বাদী আরও উল্লেখ করেন, বিয়ের পর তাকে বিবাদীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ৫ বছরের একটি কন্যা শিশুর সন্ধান মেলে, যে কারিমাকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করছিল। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, কারিমা পূর্বে বিবাহিতা ছিলেন এবং তিনি তালাকপ্রাপ্তা হওয়ার তথ্য গোপন করে সাব্বিরের সাথে প্রতারণা করেছেন।

ভুক্তভোগী সাব্বিরের পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করলে কারিমা খাতুন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি প্রকাশ্যেই হুমকি দেন যে, সাব্বিরকে তালাক দেওয়া হবে না বরং তাকে ও তার পরিবারকে মিথ্যা যৌতুক, দেনমোহর এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দিয়ে জেল খাটানো হবে।

উপায়হীন হয়ে সাব্বির হোসেন গত ১২ এপ্রিল রূপসা সিভিল জজ আদালতে উক্ত ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকার অবৈধ কাবিননামাটি রদ ও রহিত করার দাবিতে মামলা দায়ের করেন।

বাদীর আইনজীবী এস.কে ইদ্রিস আলী জানান, আমার মক্কেল একজন সহজ-সরল মানুষ। তাকে ভয় দেখিয়ে এবং তথ্য গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে এই কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি যাতে এই অবৈধ কাবিননামাটি বাতিল করা হয় এবং আমার মক্কেল হয়রানি থেকে মুক্তি পান।

বর্তমানে মামলাটি আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে। এই ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের মতে, বিয়ের আগে উভয় পক্ষের পারিবারিক ও চারিত্রিক তথ্য যাচাই না করার কারণেই এমন প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে।

About dainiksatkhira24

Check Also

তালায় প্রয়াত সাংবাদিকদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভা 

Spread the love ফারুক সাগর: সাতক্ষীরার তালায় প্রয়াত সাংবাদিকদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com