
নিউজ ডেস্ক:
ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রে সংক্রমণজনিত জটিলতায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভিড় করছেন বিএনপির নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা।
বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বেগম জিয়া বর্তমানে সিসিইউতে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসব তথ্য জানান বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাইরুল কবির খান।
হাসপাতাল থেকে ফিরে রাত ১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খালেদা জিয়ার অবস্থা সম্পর্কে স্ট্যাটাস দেন আসিফ নজরুল। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এখনি ফিরলাম। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একদমই ভালো না। সবাই দোয়া করবেন উনার জন্য।’
শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে দেখা গেছে, এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। এ ছাড়া দলের আরও জ্যেষ্ঠ নেতা ও নেতাকর্মীদের গাড়ি হাসপাতালের সামনে থামতে দেখা গেছে।
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ খবর জানার অপেক্ষায় রয়েছেন। এসময় কয়েকটি গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীও হাসপাতালে অবস্থান করেন।
দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসা চলছে খালেদা জিয়ার।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুপুরে জানান, চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী তাঁর অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় ভুগছেন
প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি–সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন।
গত রোববার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে জানা যায়, তার ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।
বিদেশে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন
গত ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান এবং ১১৭ দিন অবস্থান শেষে ৬ মে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর একাধিকবার তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
