Breaking News

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, প্রয়োজন শালীন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি

Spread the love

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক একটি প্রবণতা ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সীমা অতিক্রম করে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তি ও পরিবারকে নিয়ে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা এবং প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় করার সংস্কৃতি যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এ প্রবণতা মোটেই শুভ নয়।
‎রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ, রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সাংবিধানিক মূল্যবোধের সুরক্ষা এবং জাতীয় সমস্যার কার্যকর সমাধান। কিন্তু যখন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রতিহিংসা, কাদা ছোড়াছুড়ি ও চরিত্রহননের রূপ নেয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি দল বা ব্যক্তি নয়; ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমগ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিবেশ।
‎বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার আজ নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিব্রত করতে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক বিষয় কিংবা অসমর্থিত তথ্যকে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন প্রবণতা সমাজে বিভাজন, বিদ্বেষ এবং অসহিষ্ণুতা বাড়ায়। সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
‎সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ ধরনের রাজনৈতিক পরিবেশ নতুন প্রজন্মের কাছে রাজনীতিকে অনাকর্ষণীয় করে তুলছে। তরুণরা যদি রাজনীতিকে কেবল বিদ্বেষ, অপমান ও প্রতিহিংসার ক্ষেত্র হিসেবে দেখে, তবে তারা জনসেবামূলক রাজনীতিতে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত হবে। এতে ভবিষ্যতে সৎ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠার পথ আরও সংকুচিত হবে।
‎বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর অভিজ্ঞতা বলে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখা হয়। মতের ভিন্নতা সেখানে শত্রুতায় রূপ নেয় না। রাষ্ট্রের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে তারা রাজনৈতিক শালীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এখন সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। মতভেদ থাকবে, বিতর্ক থাকবে, কঠোর সমালোচনাও থাকবে কিন্তু তা যেন তথ্যভিত্তিক, শালীন এবং নৈতিকতার সীমার মধ্যে থাকে। ব্যক্তিগত জীবনকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানো, অপপ্রচার চালানো কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বিদ্বেষ ছড়ানোর প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা থেকে সব রাজনৈতিক শক্তির বিরত থাকা উচিত।
‎রাজনীতি যদি জনকল্যাণের পরিবর্তে প্রতিহিংসার হাতিয়ারে পরিণত হয়, তবে গণতন্ত্র দুর্বল হবে এবং জনগণের আস্থা কমে যাবে। আর যদি রাজনীতি হয় সততা, সহনশীলতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার প্রতিযোগিতা, তবে দেশ লাভ করবে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র, নতুন প্রজন্ম পাবে অনুপ্রেরণা, আর বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে একটি উন্নত, মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের পথে।

About dainiksatkhira24

Check Also

৭ ইসলামি দল নতুন জোটের পথে

Spread the loveডেস্ক রিপোর্ট: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামী দল ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com