
মোমিনুর রহমান: দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলে তরুণ ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে জনসম্মুখে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, কথিত ধর্ম অবমাননার অজুহাত তুলে ফজলুল হক আমিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি উসকানিমূলক লাইভ প্রচার করে। পরবর্তীতে সে ও তার অনুসারীরা স্থানীয় সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ও উসকে দিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো করে। সেখানে সকলের উপস্থিতিতে অত্যন্ত নৃশংসভাবে শামীমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এই জঘন্য ও বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। ধর্মীয় অনুভূতিকে মূলধন করে ও ইসলাম ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত বা সামাজিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। শান্তির ধর্ম ইসলামের দোহাই দিয়ে একজন নিরপরাধ মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলার কারণে স্থানীয়রা ফজলুল হক আমিনীকে ‘গাদ্দার’ ও ইসলাম ধর্মের কলঙ্ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
কালিগঞ্জ থানা ও দেবহাটা থানা পুলিশের একটি যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কৃঞ্চনগর এলাকা থেকে এই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং ধর্মীয় উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
