
ফারুক সাগর : ভূমিদূস্য সুজাত বিরোধযুক্ত জমি বিক্রি করার জন্য অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে। বিভিন্ন মহলে দৌড়াঝাপ করেও জমি বিক্রয় করতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে অসহায় বলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। ফলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সে পূর্ব পাকিস্তানের শহীদ মাগুরা ইউপি প্রেসিডেন্ট মৃত:শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস’র ছেলে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়,মৃত:শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস’র সুযোগ্য ছেলে সাবেক মাগুরা ইউপি চেয়ারম্যান মৃত:খোরশেদ আলম বিশ্বাসকে সন্ত্রাসী বলে অভিযোগ করে। সেই সাথে বলে ইসলামকাটি সাব রেজিস্ট্রি’ র মো:মাসুদুর রহমানকে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে বলে আখ্যায়িত করে। ভিডিও তে দেখা যায় সুমুন নামে এক মুহুরীকে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। তা না দিলে জমি রেজিস্ট্রি করা যাবে না বলে অভিযোগ করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
তালা উপজেলার ইসলামকাটি সাব রেজিস্ট্রি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,সুজাত বিশ্বাস মাগুরা ইউনিয়নের বালিয়াদহ মৌজায় সাবেক দাগ ২২৪ হাল দাগ ২৮৭ দাগের ১একর ৩০শতাংশ জমির মধ্যে ১৪ শতাংশ জমি একই এলাকার মৃত: বকো সরদার ছেলে মনছুর সরদার এবং তার বড় ভাই আফছার সরদারের ছেলে তালিবুর রহমানের কাছে রেজিস্ট্রি করার চেষ্টা করে। দেওয়ানি মামলা থাকায় জমিটি সাব রেজিস্ট্রি কর্মকর্তা মো:মাসুদুর রহমান রেজিস্ট্রি করতে অপারগতা প্রকাশ করে। যার বাদী মৃত:খোরশেদ আলম বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফারুক। তালা সহকারী জজ আদালত দেওয়ানি মামলা নং-৯১।২৫।আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান,উক্ত সম্পত্তি ওয়ারেশ সূত্রে ভোগদখল করে আসছি। আমার দাদা মৃত: শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস তার ছেলেদের নামে ক্রয় করে দেশ স্বাধীনের আগে।
মোক্তার বিশ্বাস’র ছেলে দীন মোহাম্মদ বিশ্বাস বলেন,নকশালদের হাতে আমার দাদা মৃত:শহীদ শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস এবং তার ছেলে ও আমার পিতা শহীদ মোক্তার আলী বিশ্বাসকে মুক্তিযোদ্ধা চলাকালীন নকশালরা হত্যা করে। সেই সময় থেকে আমার চাচা সুজাত বিশ্বাস আমাদের জমি জবরদখল করে রেখেছে। এই জমির হাল রেকর্ড আমাদের নামে থাকলেই জমি বুঝিয়ে না দিয়ে টালবাহানা করে আসছে।
দলিল লেখক আশরাফুল আশিদ (সুমন) জানান ,জমি দাদা সুজাত বিশ্বাস এবং গ্রহীতা মনছুর সরদার গং কোন দিন আমার কাছে আসে নাই। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে এহেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এলাকার স্বশিক্ষিত একটি পরিবার। সুজাতা বিশ্বাস এক জমি একাধিক বার বিক্রীয়ের নামে বায়না করে অর্থ আত্মসাত করে। সে একজন ভূমিদূস্য। সে তার ভাইপোদের জমি জবরদখল করে রেখেছে।
ইসলামকাঠি সাব রেজিস্ট্রি দলিল লেখক সমিতির সভাপতি বিকাশ মজুমদার জানান,কোন সম্পতির কাগজপত্র সঠিক না থাকলে সাব রেজিস্ট্রার রেজিস্ট্রি করেন না। তিনি একজন সচেতন কর্মকর্তা। কেউ যেন হয়রানি না হয় সেই বিষয়টি সব সময় অগ্রাধিকার দেন।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
