
নিউজ ডেস্ক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ‘আহতদের কোনো হদিস না পাওয়া’ এবং ‘তথ্যগত ভুল’ থাকার কথা উল্লেখ করে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গত ৫ নভেম্বর আদালতে দাখিল করা হয়। পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার।
আরো পড়ুন-https://dainiksatkhira24.com/ বিক্ষোভে উত্তাল ইরান: নিহত বেড়ে ৫৩৮, গ্রেপ্তার ১০ হাজার ছাড়াল
মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জন।
পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এজাহারে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭-এর মীনা বাজারের সামনে সাহেদ আলী আহত হন। ওই ঘটনায় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট নয়জন আহত হন বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় সাহেদের কথিত ভাই শরীফ বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। প্রাথমিক তদন্তে থানা পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে।
আরো পড়ুন-https://dainiksatkhira24.com/2026/01/12আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে: মোস্তাফিজ ইস্যুতে ফখরুল
পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ জানান, জুলাই আন্দোলনে আহতদের নিয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হলেও মামলায় উল্লেখিত কোনো আহত ব্যক্তির নাম সেখানে পাওয়া যায়নি। তদন্তে আহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, ঠিকানা বা চিকিৎসার কোনো তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় আপাতত আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আহতদের তথ্য পাওয়া গেলে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আহতদের খুঁজতে সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ এবং আশপাশের হাসপাতালগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু মামলায় উল্লেখিত কোনো ব্যক্তি সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি আহত সাহেদ আলীকে হাজির করতে বাদীকে নোটিশ দেওয়া হলেও তাতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এছাড়া বাদীর পরিচয় যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, এজাহারে দেওয়া ঠিকানা ও তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মিল নেই। বাদীর মোবাইল নম্বর দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল এবং যোগাযোগ স্থাপন করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আহতদের হাজির বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র দিতে ব্যর্থ হন তিনি।
তবে মামলার বাদী শরীফ দাবি করেন, তিনি তদন্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং মামলা দায়েরের পর থেকেই হুমকির মুখে রয়েছেন। তার ভাষ্য, ‘বিচার চাওয়া কি অপরাধ?’
উল্লেখ্য, এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন—শাকিল হোসেন ইমরান, কামরুল হাসান ওরফে কামু, মারুফ হোসেন এবং মাসুদ রানা বেপারী। কামরুল হাসানের আইনজীবী পীযূষ কান্তি বলেন, তার মক্কেল হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়েছে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
