Breaking News

বাসায় ফিরলেও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকবেন তামিম

Spread the love

স্পোর্টস ডেস্ক:
গেল ২৪ মার্চ মোহামেডানের জার্সিতে বিকেএসপিতে খেলতে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল। অধিনায়ক হিসেবে টসও করেছিলেন। কিন্তু এর পরের ঘটনা সবারই জানা। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরেছেন তিনি। টানা প্রায় ১০০ ঘণ্টার লড়াই শেষে স্বাভাবিক জীবনের প্রত্যাশায় বাসায় ফিরেছেন তামিম। গতকাল দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তাকে বাসায় নিয়ে যায় তার পরিবার। ঐ দিন সাভার থেকে বাসায় ফেরার কথা থাকলেও বাস্তবে সেটি আর হয়নি। টানা চার দিন হাসপাতালের বিছানায় থেকে গতকাল পঞ্চম দিন বাসায় ফিরতে পেরেছেন তিনি।
তামিমকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর তার বড় ভাই ও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবাল বলেছেন, ‘সবার প্রার্থনায় তামিম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। আমি সব শুভাকাঙ্ক্ষী, বিসিবি, আমাদের পরিবার, চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত সবাইকে এবং বন্ধুদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা এই কঠিন সময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং প্রার্থনা আমাদের কাছে অনেক বড় বিষয় ছিল। এজন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ, ধন্যবাদ জানাই সবাইকে।’

হওয়ার পরও তামিমের শরীরে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকরা। এছাড়া বংশগতভাবে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা রয়েছে। তার শরীরে। এ কারণে হৃদপিণ্ডে একাধিক ব্লক ধরা পড়েছে। যেখানে একটি ধমনি শতভাগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঐ ধমনিতে ব্লক ছিল ৮০-৯০ শতাংশ। এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যার কারণে সেই ধমনিতে রক্তপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তামিম। কিন্তু সে সময় ট্রেইনার ইয়াকুব চৌধুরী ডালিম সিপিআর (কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন) দেওয়ায় প্রাণে রক্ষা পান এই ক্রিকেটার।

কেপিজে হাসপাতাল থেকে রিং বসানোর ৩০ ঘণ্টা পর তামিমকে নেওয়া হয়েছিল এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে প্রায় তিন দিন পর্যবেক্ষণে থাকেন তিনি। বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। হৃদস্পন্দন কিছুটা কম থাকলেও চিকিৎসকরা সবকিছু স্বাভাবিক পেয়েছেন। তবে শঙ্কা এখনো কাটেনি। প্রথম এক মাস গভীর পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত পরীক্ষানিরীক্ষার মধ্যে থাকতে হবে।

পাশাপাশি আগামী তিন মাস নির্দিষ্ট রুটিনে থাকতে হবে তাকে। খাদ্যাভ্যাস বদলাতে হবে তামিমকে। চিকিৎসকরা এই বিষয়ের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। এগুলো মেনে না চললে এমন দুর্ঘটনা আবারও ঘটার শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে কেবল তামিম ইকবাল নন, এমনভাবে হৃদরোগে আরো অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট তারকা সৌরভ গাঙ্গুলী। এপ্রিলে লঙ্কান স্পিন কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরনও এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০২২ সালের মার্চে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেন ওয়ার্ন তো না ফেরার দেশেই পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাতে ক্রিকেটারদের হৃদরোগের ঘটনা নতুন না। তবে এত অল্প বয়সে এভাবে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারটিতে অনেকে অবাক হয়েছেন। ভবিষ্যতে নিয়মের মধ্যে না থাকলে তামিমের জন্য সমস্যা আরো প্রকট হতে পারে।

এই মুহূর্তে কিছুদিন বাসায় বিশ্রাম নেওয়ার পর ডাক্তাদের পরামর্শে তামিমকে দেশের বাইরে নেওয়ারও পরিকল্পনা চলছে। থাইল্যান্ডের ভিসার জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান। আবার বিসিবির সাবেক পরিচালক ও এভারকেয়ার হাসপাতালের অন্যতম কর্ণধার খন্দকার জামিল জানিয়েছিলেন সিংগাপুরেও নেওয়া হতে পারে তামিমকে। তবে সবাই বলছেন, দেশেই তামিম বিশ্বমানের চিকিৎসা পেয়েছেন। এজন্য এই যাত্রায় বেঁচে ফিরেছেন তিনি। ডা. শাহাবুদ্দিন তো অকপটে বলেছেন, এমন চিকিৎসা শতকরা ২ শতাংশ রোগীও পান না।

About dainiksatkhira24

Check Also

বাংলাদেশে দেখা যাবে আইপিএল

Spread the love স্পোর্টস ডেস্ক: নতুন সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সম্প্রচার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com