
রঘুনাথ খাঁ ঃ মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তির ষোড়শী
কন্যাকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ছবি সামাজিক মাধ্যমে
ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামী হৃদয় ঘোষকে গত
পাঁচ মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ| ফলে মামলার তদন্তকারি
কর্মকর্তা সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক হাবিবুর
রহমানের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ| আসামী হৃদয় ঘোষ সাতক্ষীরা সদরের কুলতিয়া গ্রামের জগবন্ধু ঘোষের
ছেলে|
মামলার বিবরনে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদরের বুধহাটা ইউনিয়নের
একটি গ্রামের ষোড়শী এক নারীকে (বর্তমানে কলেজ পড়ুয়া) বেশ
কিছুদিন আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সূযোগে ধর্ষণ করে
কুলতিয়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ি দেবাশীষ মণ্ডল| ধর্ষণে বাধা দেওয়ায়
ওই ষোড়শীকে উপর্যুপরি কামড়ে জখম করা হয়| ধারণ করা হয় ধর্ষণের
ভিডিও চিত্র| ধর্ষণের ভিডিও চিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়
দেখিয়ে বেশ কয়েকবার ওই মেয়েকে ধর্ষণ করে দেবাশীষ| দেবাশীষের
সহযোগী ছিলো একই গ্রামের জগবন্ধু ঘোষের ছেলে কলেজ ছাত্র হৃদয়
ঘোষ ও মাদকসেবী হাবিব| বিষয়টি ওই ষোড়শী তার বাবা ও মাকে
জানানোর পর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ধর্ষণের
ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়| নিরুপায় হয়ে ওই ষোড়শীর মা বাদি হয়ে গত
২৩ জানুয়ারি ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর নারী ও শিশু নির্যাতন
আইনের ৯(১)/১০ ধারা তৎসহ ২০১২ সালের পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ
আইনের ৮(১)(২)(৩) এবং পেনাল কোডের ৩৪১/৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় দেবাশীষ ও
হৃদয় এর নাম উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন| গত ২৮
জানুয়ারি র্যাব সদস্যরা সন্ধ্যায় গঙ্গারামপুর মাসিমার বাড়ি থেকে
দেবাশীষকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে| ২৮ জানুয়ারি রাত ১০টা
৪১ মিনিটে হৃদয় ঘোষ আবারো ওই ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও চিত্র
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়| ২৯ জানুয়ারি দেবাশীষ
মণ্ডল সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম তনিমা মণ্ডলের কাছে নিজের ও হৃদয়ের
সম্পৃক্ত থাকার কথা ¯^ীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়| হৃদয়
ঘোষ ওই ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে
দেয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করে দেবাশীষ|
মামলার বাদির অভিযোগ, দোবাশীষ মণ্ডল জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও তার
মেয়েকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করছে| মামলার বর্তমান তদন্তকারি
কর্মকর্তা ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান
হৃদয়কে গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তাকে নানাভাবে আইনি
ব্যাখ্যা দিয়েছেন| তবে হৃদয়ের মোবাইল থেকে নগ্ন ভিডিও ছাড়ার
স্কিন শর্ট সংগ্রহ করা ও দেবাশীষের ¯^ীকারোক্তিতে হদয়ের নাম থাকার
পরও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা হৃদয়ের পরিবারের কাছ থেকে বিশেষ
সুবিধা নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি|
এ ব্যাপারে মামলার বর্তমান তদন্তকারি কর্মকর্তা ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ
ফাঁড়ির উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান মঙ্গলবার মুঠোফোনে হৃদয়ের
পরিবারের কাছ থেকে কোন সুবিধা নেওয়ার কথা অ¯^ীকার করেই বলেন,
এজাহারে বা ১৬৪ ধারায় কারো নাম থাকলেই তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে
বলে তিনি মনে করেন না| ফরেনসিক প্রতিবেদন আসামর পর তা যাঁচাই
বাছাই করেই হৃদয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
