
ফারুক সাগর : ‘রক্তচোখের আগুন মেখে ঝলসে যাওয়া আমার বছরগুলো / আজকে যখন হাতের মুঠোয় কণ্ঠনালীর খুন পিয়াসী ছুরি / কাজ কি তবে আগলে রেখে বুকের কাছে কেউটে সাপের ঝাপি / আমার হাতেই নিলাম আমার নির্ভরতার চাবি / তুমি আমার আকাশ থেকে সরাও তোমার ছায়া / তুমি বাংলা ছাড়ো।’- “বাংলা ছাড়” সিকান্দার আবু জাফরের বিখ্যাত কবিতা।
আজ এই প্রখ্যাত কবি ও সম্পাদকের ১০৬ তম জন্ম বার্ষিকী। তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার। বাবার নাম সৈয়দ মঈনুদ্দীন হাশেম। পেশায় তিনি কৃষক ও ব্যবসায়ী ছিলেন। তালা ব্রজেন দে সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করার পর আবু জাফর কলকাতার রিপন কলেজে (বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজ) পড়েন।
১৯৪১ সালে তিনি কাজী নজরুল ইসলামের নবযুগ পত্রিকায় যোগ দেন। এ ছাড়া দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক মিল্লাতে চাকরি করেছেন। ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ তাঁর রচিত বিখ্যাত গান। দেশবিভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন।
পঞ্চাশের দশকে রেডিও পাকিস্তানের শিল্পী হিসেবে কাজ করেন। একজন সাহিত্যিক হিসেবে সিকানদার আবু জাফরের যে খ্যাতি তার চেয়েও অনেক বেশি প্রসিদ্ধি সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে। সমকাল সাহিত্য পত্রিকার প্রকাশ ও সম্পাদনা তার জীবনের একটি তাৎপর্যময় ঘটনা। ১৯৫৭ থেকে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ‘সমকালে’র প্রকাশক ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে পূর্ব বাংলার সাহিত্য আন্দোলনে নতুন গতির সঞ্চার করেছিলেন।
এই পত্রিকায় ষাটের দশকের নামী-দামি সব কবি-লেখকের রচনা প্রকাশিত হয়। লেখার সাবধানী ও নৈর্ব্যক্তিক নির্বাচন, প্রতিভাবান নতুন লেখকদের মর্যাদা প্রদান, মনোযোগী সম্পাদনা ও মুদ্রণ পরিপাট্যের জন্য সমকাল সব কবি-লেখকের জন্য স্বপ্নের পত্রিকা হয়ে উঠেছিল। একই সঙ্গে এটি প্রগতিশীল বাংলা সাহিত্যধারার অগ্রগামী সাহিত্যপত্রে পরিণত হয়েছিল। তাঁর নিজেরও প্রচুর লেখা এই পত্রিকায় তিনি প্রকাশ করেছিলেন, যার মধ্যে বিখ্যাত ‘বাংলা ছাড়ো’ কবিতাটি।
১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি নাটকে ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮৪ সালে মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
