
নিজস্ব প্রতিনিধি:
পুরাতন সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মন্দিরে সংঘটিত দুঃসাহসিক চুরির ঘটনার ৪০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো লুণ্ঠিত সোনার গহনা বা নগদ অর্থ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল হোতারা অধরাই রয়ে গেছে। এতে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি বাবলু গাজীর জামিন শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ আদালত আগামী ১১ মে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। একইসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কেস ডায়েরিসহ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মার্চ রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে চুরির ঘটনাটি ঘটে। চোরচক্রের সদস্যরা একে একে কালীমাতা, অন্নপূর্ণা, জগন্নাথ দেব, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং রাধা-গোবিন্দ মন্দিরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা বিগ্রহ থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকার সোনার গহনা এবং ৭ হাজার টাকা নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতোমধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে মাসুদ রানা ও অংকন সাহা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
জবানবন্দিতে অংকন সাহা জানান, চুরির সময় তিনি ও মাসুদ রানা মন্দিরের ফটকে পাহারায় ছিলেন। আর আতাউল ইসলাম (আতা) ও মামুন (বোতল) ভেতরে ঢুকে তালা ভেঙে সোনা লুট করেন। পরে সেই সোনা ইয়ারুল নামের এক ব্যক্তির কাছে রাখা হয় বলে জানা গেছে। তবে মূল অভিযুক্ত আতা ও বোতল এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
মামলার বাদী নিত্যানন্দ আমিন বলেন, পুলিশের ওপর তাদের আস্থা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এর আগে দুর্গাপূজার সময় শহরে একাধিক চুরির ঘটনায়ও কোনো উদ্ধার হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, চুরি হওয়া আলামত উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে এবং র্যাবের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রধান আসামিরা বারবার সিম পরিবর্তন করে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে, জেলায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
