Breaking News

সাতক্ষীরায় ওজোপাডিকো কার্যালয়ে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন

Spread the love

মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন : প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে রিচার্জ জটিলতার কারণে সাতক্ষীরায় ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড) কার্যালয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে রিচার্জ করতে না পারায় বাধ্য হয়ে শত শত গ্রাহককে সরাসরি অফিসে এসে বিদ্যুৎ রিচার্জ করতে হচ্ছে।

রোববার (৭ জুন) ও সোমবার (৮ জুন) সকালে সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকায় অবস্থিত ওজোপাডিকোর গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জন গ্রাহক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ করতে, আবার কেউ টোকেন নম্বর সংগ্রহ করতে এসেছেন। সকাল থেকেই নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও বয়স্কদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, গত এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ফলে কোনো উপায় না পেয়ে তাদের ওজোপাডিকোর অফিসে এসে রিচার্জ করতে হচ্ছে। অনেক গ্রাহকের মিটারে ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দিনমজুর মিজানুর রহমান বলেন, আমরা দিনমজুর মানুষ। সকাল থেকে কারেন্ট ভরার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন কারেন্ট ভরব আর কখন মাঠে গিয়ে কাজ করব বুঝতে পারছি না। এখানে মানুষের দীর্ঘ লাইন, অথচ কাউন্টার মাত্র একটি। এতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। এই গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই।

হাফিজুর রহমান নামে এক গ্রাহক বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কাজের জন্য বিভিন্ন মানুষ ফোন দিচ্ছে, কিন্তু যেতে পারছি না। প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। মিটারে ১৮০ সংখ্যার টোকেন নম্বর দিতে হয়। সেখানে কোনো ভুল হলে আবার নতুন করে ঝামেলায় পড়তে হয়।

গ্রাহক আশিকুর রহমান বলেন, আমার পায়ে সমস্যা আছে, ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। তারপরও সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণা পাচ্ছে, পায়ে ব্যথা করছে। শারীরিক সমস্যার মধ্যেও বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হয়েছে।

কলেজ শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। সকাল ৯টার দিকে এসেছিলাম, এসে দেখি প্রচুর সিরিয়াল। কাউন্টার সংখ্যা বাড়ানো হলে কিছুটা হলেও ভোগান্তি কমবে। এই গরমের মধ্যে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, দুর্ভোগ তো আছেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক গ্রাহক রোদ ও গরম উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ বসার জায়গা না পেয়ে কষ্ট করছেন, আবার কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে দ্রুত রিচার্জের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, সেবা সহজ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হলেও বর্তমানে তা নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন-তখন মিটার লক হয়ে যাওয়া, রিচার্জ জটিলতা, ব্যাটারির সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেকের ভাষায়, প্রিপেইড মিটার এখন তাদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওজোপাডিকো (WZPDCL) এর আওতাধীন সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজারের বেশি। এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে বর্তমানে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ (ওজোপাডিকো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মতিয়ার রহমান বলেন, আমরা দুটি কাউন্টার চালুর ব্যবস্থা করেছি। প্রয়োজনে আরও একটি কাউন্টার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের মাধ্যমেও বিল পরিশোধ ও রিচার্জের সুযোগ রয়েছে। কারিগরি সমস্যার বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

তবে দ্রুত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা চালু এবং কাউন্টার সংখ্যা বৃদ্ধি না হলে গ্রাহক ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, আধুনিক সেবার নামে নতুন দুর্ভোগ নয়, সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করুক কর্তৃপক্ষ।

 

About dainiksatkhira24

Check Also

 সাতক্ষীরা সদর উপজেলার প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনের পেশা ভিত্তিক সফটস্কিলস প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

Spread the loveনিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ) শীর্ষক প্রকল্পের সাতক্ষীরা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com