
স্পোর্টস ডেস্ক:
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনার পর মহসিন নাকভি জানিয়েছিলেন আগামী সোমবারের মতো বিশ্বকাপ ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে রোববার রাতে এক দিন আগেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে পিসিবি। মহসিন নাকভির বোর্ড ঘোষণা দিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে পাকিস্তান, তবে আইসিসির দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। পিসিবির এমন সাহসী সিদ্ধান্তের পর বড় ধরনের ঝড় বয়ে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটে। এমন ঝড় হয়তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ১৮২ বছরেও কেউ দেখেনি।
সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি
বৈশ্বিক আসর মানে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ। নিরাপত্তা শঙ্কা থাকা ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। বিসিবির এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে শুরু থেকে সমর্থন ছিল পাকিস্তানের। পিসিবির দাবি ছিল-আইসিসির দ্বিমুখীর নীতি মেনে নেবে না তারা। বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জন থাকলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্রুপ পর্বের খেলায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট বিশাল আর্থিক ক্ষতি আইসিসি ও টুর্নামেন্টের মূল আয়োজক দেশ ভারতের জন্য। যা পাকিস্তানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
নির্দিষ্ট করে জানা না গেলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী এক ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচের বাজারমূল্য ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকা। সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপনের হার, স্পনসরশিপ, টিকিট এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড মিলিয়ে এই ম্যাচের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকা। এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের প্রতি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৪০ লাখ ভারতীয় রুপিতে। সেইসঙ্গে দুই দলের লড়াই মাঠে বসে উপভোগ করতে দর্শকদের গুনতে হয় লাখ টাকার বেশি।
আইসিসির অবস্থান
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললে কতটা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে আইসিসি, তা সংস্থাটির বিবৃতির দিকে তাকালে অনুমান করা যায়। এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও আইসিসি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে ‘পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান সরকারের ঘোষণার বিষয়ে এখনো পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পায়নি তারা। তবে কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচে অংশ না নেওয়ার অবস্থান আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে খাপ খায় না। বিশ্বব্যাপী একটি ক্রীড়া আয়োজনের মূল ভিত্তি হলো-সব যোগ্য দল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাছাই করা ম্যাচে অংশগ্রহণ এই নীতি, প্রতিযোগিতার সততা ও ন্যায্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে লাভজনক গ্রুপ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত এটি। আইসিসি বলেছে, সরকারগুলোর জাতীয় নীতিগত সিদ্ধান্তের ভূমিকা তারা সম্মান করে, তবে এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ব জুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের স্বার্থের পরিপন্থি। তবে পাকিস্তান যদি নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে তাহলে শাস্তি এবং নিষেধাজ্ঞার কথাও ভেবে রেখেছে।
একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, পাকিস্তান সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আইসিসির সদস্য বোর্ডগুলিকে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)-এর জন্য খেলোয়াড়দের এনওসি না দেওয়ার নিদের্শ, এশিয়া কাপ থেকে পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করার জন্য, অথবা আইসিসির রাজস্বের অংশ থেকে পিসিবির অংশ প্রত্যাহার করতে পারে।
ভারতের অবস্থান
টুর্নামেন্টের মূল আয়োজক দেশ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা জানিয়েছেন, আপাতত অপেক্ষা ছাড়া কিছুই করবে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজীব শুক্লা বলেছেন, ‘আইসিসি একটি বড় বিবৃতি দিয়েছে, তারা ক্রীড়ামানসিকতার কথা বলেছে। আমরা আইসিসির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আইসিসির সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত বিসিসিআই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না। অর্থাৎ নির্ধারিত ১৫ ফেব্রুয়ারি ম্যাচের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে ভারত। এমনকি ম্যাচের আগে নির্ধারিত অনুশীলন ও সংবাদ সম্মেলন করবে ভারত। সেদিন পাকিস্তান ম্যাচ খেলতে না এলে নিয়ম অনুযায়ী আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন তারা।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
