
স্টাফ রিপোর্টার:
পর্যটন মৌসুমের চূড়ান্ত সময়ে এসেও সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ–নীলডুমুর এলাকায় নেই সেই চেনা পর্যটক ভিড়। সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ অঞ্চলে দেশি–বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে পুরো এলাকা। তবে চলতি মৌসুমে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।
পর্যটক কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রাজস্ব আয়ে। বন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে যেখানে প্রায় ১৬ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে তা নেমে এসেছে মাত্র ৬ লাখ টাকায়। অর্থাৎ রাজস্ব কমেছে ৬৫ শতাংশেরও বেশি।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, রাজস্ব কমে যাওয়ায় বন সংরক্ষণ, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পর্যটক না বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যটক শূন্যতার প্রধান কারণ শ্যামনগর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম অবনতি। সাতক্ষীরা–শ্যামনগর মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলমান থাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। ফলে ধুলাবালি, খানাখন্দ আর যান চলাচলের অনুপযোগী অবস্থার কারণে অনেক পরিবহন সংস্থা এই রুটে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে।
সুন্দরবন অঞ্চলের ট্যুর গাইড মো. আনিসুর রহমান বলেন, “রাস্তার এই বেহাল দশা পর্যটকদের আগ্রহ নষ্ট করে দিয়েছে। ডাকাত আতঙ্ক নিয়ে নানা গুজব থাকলেও বাস্তবে পর্যটকদের জন্য বন বিভাগের অনুমতি বা নিরাপত্তা নিয়ে বড় কোনো সমস্যা নেই।”
পর্যটক না থাকায় উপকূলীয় এলাকার পর্যটননির্ভর মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। নৌযান চালক, গাইড, হোটেল–রেস্টুরেন্ট কর্মীসহ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তারা।
বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন ইনচার্জ জিয়াউর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে সাধারণত অক্টোবরের শেষ দিক থেকেই পর্যটক আসতে শুরু করেন। কিন্তু এবার খারাপ রাস্তার কারণে পর্যটক প্রায় নেই বললেই চলে। দোবেকি ও কলাগাছিয়া এলাকায় যারা আসছেন, তারা বেশিরভাগই একদিনের ভ্রমণকারী। দীর্ঘমেয়াদি বা বিদেশি পর্যটক একেবারেই অনুপস্থিত।
তবে দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবন পর্যটনে আশার আলো দেখছেন সোনার বাংলা ম্যানগ্রোভ ইকো-ট্যুরিজমের কর্ণধার নাজমুস সাদাত পলাশ। তিনি জানান, সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক মানের ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে চারটি সংগঠন যৌথভাবে কাজ করছে। এর আওতায় পরিবেশবান্ধব ইকো-বোট, ইকো-কটেজ, স্থানীয় ইকো-গাইড, আদিবাসী সংস্কৃতি সংরক্ষণ, জীবনযাত্রা জাদুঘর ও ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “বৈজ্ঞানিক ও কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন পর্যটন মডেল বাস্তবায়ন হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সুন্দরবনে ফেরানো সম্ভব হবে।”
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
