
পাইকগাছা প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাম পা হারিয়েছেন খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার বাতিখালী এলাকার ৩৩ বছর বয়সী শারমিন জামান (লিমা)। বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন তিনি। দুর্ঘটনার পর অস্ত্রোপচার করে হাঁটুর ওপর থেকে তাঁর বাম পা কেটে ফেলতে হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পুনর্বাসন নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে শারমিন তাঁর বাবা নুরুজ্জামান টিটু ও দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে পাইকগাছার উদ্দেশে রওনা দেন। কুষ্টিয়া থেকে পরিবহনে চুকনগর পৌঁছানোর পর তাঁরা একটি ভ্যানে করে পাইকগাছার দিকে যাচ্ছিলেন।পরিবারের দাবি, ভোর ৬টার দিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পুরাতন থানার সামনে পৌঁছালে সড়কের পাশে রডবোঝাই একটি আলমসাধু রাখা ছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাককে পাশ কাটাতে গিয়ে ভ্যানটির চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এ সময় ভ্যানটি ওই আলমসাধুর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।দুর্ঘটনায় শারমিন ও তাঁর বাবা নুরুজ্জামান টিটু গুরুতর আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে খুলনায় নেওয়া হয়। পরে শারমিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়।পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারমিনের বাম পা হাঁটুর ওপর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ১২ তলার ২০৬ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।দুর্ঘটনার সময় শারমিনের সঙ্গে থাকা তাঁর ১৪ বছর ও সাড়ে ছয় বছর বয়সী দুই মেয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে। আকস্মিক দুর্ঘটনা ও মায়ের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা তাদের ওপরও মানসিক প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছে পরিবার।শারমিনের বাবা নুরুজ্জামান টিটু পাইকগাছা পৌর সদরে সাউন্ড সিস্টেমের ছোট ব্যবসা করেন। তাঁর সীমিত আয়ের ওপরই পরিবারের ব্যয় নির্বাহ হতো। মেয়ের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়েছে। সামনে চিকিৎসা, কৃত্রিম পা সংযোজন ও পুনর্বাসনের জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
নুরুজ্জামান টিটু জানান, “মেয়ের চিকিৎসার জন্য এখন পর্যন্ত অনেক টাকা খরচ হয়েছে। সামনে আরও চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন। আমাদের সামর্থ্য সীমিত। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা পেলে মেয়েটার চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।”
পরিবারের অভিযোগ, সড়কের পাশে রডবোঝাই আলমসাধুটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাখা থাকার কারণেই দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সড়কের পাশে ওই যানটি রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
শারমিনের পরিবার বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সহযোগিতা কামনা করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে চাইলে তাঁর বাবা নুরুজ্জামান টিটুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
