
জি এম মুজিবুর রহমানঃ আশাশুনি উপজেলার মানিক খালি ব্রিজ হতে বড়দল মেইন সড়কের দুরাবস্থা চরম আকারে পৌছেছে। ফলে যানবাহন চলাচল খুবই কষ্টকর ও হুমকীগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। সড়কের ফকরাবাদ গার্লস স্কুলের পাশে পিচের রাস্তার মাথা থেকে পূর্ব দিকের পিচের রাস্তা সংস্কারের নামে ইট বসানো স্থানে ১৫-২০ জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান, ইঞ্জিনভ্যান, নসিমন ও করিমনে মানুষ যাতায়াত করে। এছাড়া এই রাস্তা দিয়ে পাইকগাছা, কয়রা তালা, দেবহাটা, কালীগঞ্জ ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় মালবাহী ট্রাক চলাচল করে থাকে। মানিকখালী ব্রিজ টু বড়দল সড়কের দৈর্ঘ্য ৭কিলোমিটার। এরমধ্যে জামালনগর ফুলতলার সামনে, ফকরাবাদ পাওয়ার হাউস ও বুড়িয়া হাসপাতালের সামনে পিচের রাস্তার ওপরে ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
বড়দল ইউপি’র প্রশাসক আকতার ফারুক বিল্লাহ বলেন, জনগণের ভোগান্তি ও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। বাস স্টার্টার আকরাম হোসেন জানান, মানিকখালী ব্রিজ টু বড়দল সড়কের প্রায় শতাধিক জায়গায় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ফকরাবাদ গার্লস স্কুলের সামনে। বাস চলাচলে খুবই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। প্রতিদিন গাড়ির চাকার তলে ইটের খোয়া পড়ে স্লিপ করে মানুষের গায়ে আঘাত লাগছে।
সুব্রত মন্ডল ও ভগিরথ মন্ডল সহ রাস্তার পার্শ্ববর্তী অসংখ্য নারী-পুরুষ জানান, গভীর রাতে যখন গাড়ি এসে আটকে পড়ে তখন ঘুম থেকে উঠে এসে ওই গাড়ি ধাক্কা দিয়ে ছাড়িয়ে দিতে হয়। আমরা পার্শ্ববর্তী লোকজন কেউ গাড়ির বিকট শব্দে ঘুমাতে পারিনা। প্রতিনিয়ত এখানে বিভিন্ন যানবাহন বড় বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়। এমন কোন দিন নেই রাস্তার যাত্রীদের মাথায় পানি ঢেলতে হয় না। গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক সনাতন বৈরাগী জানান, বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা বড় ধরনের গর্ত হয়ে প্রতিনিয়ত গাড়ির জ্যাম লেগে থাকে। কিছুদিন আগে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিউজ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে যেনতেন করে রাস্তা সংস্কার করে দিয়েছিল সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তিনি আরো বলেন বিদ্যালয়ের প্রাচীর না ভাঙ্গা পর্যন্ত মনে হয় রাস্তা পূর্ণ সংস্কার হবে না। বিদ্যালয়ে ১৩২জন ছাত্রী রয়েছে। যাদের পাঠদানে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। যাত্রীবাহী বাস এবং মালবাহী ট্রাক অটোমেটিক জ্যাম লেগে থাকে।
ফকরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিতা মন্ডল জানান, বিদ্যালয়ে ২০০ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে, যার মধ্যে ১৭০ জন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। স্কুলে যাতায়াতের পথে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা। রাস্তাটি জরুরি ভাবে সংস্কারের দাবি জানান তিনি। পথযাত্রী বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের প্রভাষক মানিক মন্ডল বলেন, প্রতিনিয়ত বড়দল কলেজে যাতয়াতের সময় কাদা পানিতে ভিজে যেতে হয়। এমনকি গায়ে কাঁদা অবস্থায় ক্লাস নিতে হয়।
সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, কিছুদিন আগে ওখানে রাস্তা সংস্কার করা হয়েছিল। আবারো রাস্তা খারাপ হয়ে গেছে আপনি বললেন তাই শুনতে পেলাম। দ্রুত রাস্তাটি পুটিং করার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
