Breaking News

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ

Spread the love

জেমস আব্দুর রহিম রানা: প্রকৃতিতে বর্ষা পেরিয়ে শরতের আনাগোনা শুরু হলেও রসাল তরমুজের আবাদ ও ব্যাপক ফলন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তরমুজ গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত। কিন্তু কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নতুন নতুন উদ্ভাবনের ফলে কৃষির সকল ক্ষেত্রেই অভাবনীয় পরিবর্তন হয়েছে। শীতের সবজি যেমন পাওয়া যাচ্ছে বছর জুড়ে, তেমনি গ্রীষ্মকালীন ফসল আবাদ হচ্ছে বর্ষা কিংবা শরতেও।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ভান্ডার হিসেবে পরিচিত খুলনার বটিয়াঘাটা, রূপসা, দিঘলিয়া, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলাসহ যশোরের মনিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে গ্রীষ্মের ফল তরমুজের চাষ হচ্ছে। নীচু জমিতে পানি জমলেও মাছের ঘেরের পাড়ে মাচায় তরমুজের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। অফসিজনের এ তরমুজ সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দামও ভালো পাচ্ছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রীষ্মের ফল হলেও ঘেরের পাড়সহ মাঠের পর মাঠ জুড়ে মাচায় চাষ করা হচ্ছে তরমুজ। এই অফসিজনের তরমুজের ফলনও ভালো। এতে খুলনার উপকূলীয় এলাকায় অফসিজনের তরমুজ চাষ ক্রমেই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) শুধুমাত্র খুলনা জেলায় ৯৬৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন ফল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, বি-৫, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান। শরীর ঠাণ্ডা রাখা, হজমে সহায়তা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি কার্যকর। সাধারণত এই ফল গ্রীষ্ম মৌসুমেই বাজারে পাওয়া যায়। এখন বৃষ্টির মৌসুমেও চাষ হওয়ায় কৃষকেরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, খুলনার মাটির প্রকৃতি ও আবহাওয়া অফসিজনে তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। বিশেষ করে বটিয়াঘাটা, রূপসা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা ও দিঘলিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজের চাষ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচে ১ লাখ টাকারও বেশি তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কৃষকেরা এখন লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে তরমুজের দিকে ঝুঁকছেন।
বটিয়াঘাটার কৃষক আব্দুল্লাহ গাজী বলেন, আগে শুধু গ্রীষ্মকালে তরমুজ চাষ হতো। এখন সরকারি সহায়তায় অফসিজনে তরমুজ চাষ শুরু করেছি। পাইকাররা ক্ষেত থেকেই ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে তরমুজ কিনে নিচ্ছে। এতে খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হচ্ছে।
কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘেরের পাড়ে আগে শুধু শাকসবজি চাষ করতাম। এখন তরমুজও হচ্ছে। এতে আয় বাড়ছে। পাশাপাশি পরিবারের চাহিদাও মেটানো যাচ্ছে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমি তরমুজের চেয়ে দাম বেশি পাওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন। এর ফলে সারাবছর তরমুজ খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে মানুষ। অফসিজনে তরমুজ চাষে জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সহায়তা দিচ্ছে। কৃষকদের বীজ সরবরাহ ছাড়াও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের আমরা শুধু বীজই দিচ্ছি না, কীভাবে তরমুজ চাষ করলে ফলন ভালো হবে সেই বিষয়ে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অফসিজনে তরমুজ চাষে সাফল্য পাওয়ায় এ আবাদ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু খুলনা নয়, উপকূলীয় অন্যান্য জেলাতেও অসময়ে তরমুজ চাষ বাড়ছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ পেলে এ খাত ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এজন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও অব্যাহত সরকারি সহায়তা।

বিল্ডিং ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইন ভালনারেবল ল্যান্ডস্কেপস ইন বাংলাদেশ (বিসিআরএল) প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. লোকমান হোসেন মজুমদার বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় খুলনা ছাড়াও বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় বর্ষাকালীন তরমুজের চাষ হচ্ছে। কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে তরমুজ আবাদকে আরও বড় আকারের কর্মসূচি হিসেবে নেওয়া যেতে পারে ।

About dainiksatkhira24

Check Also

বেনাপোলে হাসপাতালের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধনের পর সড়ক অবরোধ

Spread the loveমো.সাগর হোসেন: যশোরের বেনাপোলে একটি আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com