
রঘুনাথ খাঁ ঃ রাতের আঁধারে নির্মাণাধীন সরস্বতী
প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক তিনটার দিকে
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের পূর্ব তেঁতুলিয়া
গ্রামের পবিত্র স্বর্ণকাারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিচার হয়না
তাই থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়নি বলে জানান পবিত্র স্বর্ণকার।
পূর্ব তেঁতুলিয়া গ্রামের মধুসুধন স্বর্ণকারের ছেলে গোপাল
স্বর্ণকার জানান, স্থানীয় কয়েকজন কিশোর মিলে গত ছয় বছর ধরে
পবিত্র স্বর্ণকারের বাস্তু ভিটায় সরস্বতী পুজা করে আসছেন তারা।
স্থানীয় যুব সংঘের সদস্য একান্ত সরকার এবার ওই প্রতিমা তৈরি
করছিলেন। প্রতিমার ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১২ হাজার টাকা। প্রতিমার
গায়ের মাটি শুকানোর জন্য পবিত্র স্বর্ণকারের বাড়ির সামনের জমিতে
রাখা ছিল।মঙ্গলবার থেকে ওই প্রতিমার গায়ে রং দেওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার
সরস্বতী পুজার দিন। সকালে তিনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ওই প্রতিমা
ভাংচুর করা অবস্থায় দেখে কয়েকজনকে অবহিত করেন।
পবিত্র স্বর্ণকার জানান, গোপাল স্বর্ণকারের কাছে খবর পেয়ে তিনি
ভাংচুর করা প্রতিমা দেখে কালিগঞ্জ থানায় খবর দেন। কালিগঞ্জ
সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাজীব, কালিগঞ্জ সহকারি
কমিশনার (ভূমি) মঈনউদ্দিন খান, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুয়েল
হোসেন, বিজিবি কর্মকর্তা, সাতক্ষীরা-৩ আসনের বিএনপি
মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জাতীয়
পার্টির প্রার্থী রুবেল হোসেনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্থরের মানুষ
তাদের বাড়িতে ছুঁটে আসেন। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত
করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তবে কালিগঞ্জ
সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাজীব ভাংচুর করা প্রতিমার
ভিডিও বা স্থির ছবি ফেইসবুক বা কোথায় না দেওয়ার জন্য বলেন। ওই
প্রতিমা দ্রুত সরানোর জন্য বলেন তিনি। এতে স্থানীয় যুবকরা ক্ষুব্ধ হন।
একপর্যায়ে তারা কয়রা উপজেলা থেকে একটি প্রতিমা কিনে পুজা
করার সিদ্ধান্ত নেন।
পবিত্র স্বর্ণকার অভিযোগ করে বলেন. ইতিপূর্বে কালিগঞ্জ উপজেলায়
অনেক প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। কোনটার বিচার পাওয়া
গেছে এমনটি তার জানা নেই। তাই তারা থানায় কোন লিখিত
অভিযোগ করেননি।
তবে প্রতীক বরাদ্দের আগের রাতে প্রতিমা ভাংচুর নিয়ে স্থানীয় হিন্দু
সম্প্রদায়ের মানুষজন মুখ খুলতে না চাইলেও তারা বলেন, ভোট যত
কাছাকাছি আসবে ও ভেট শেষে প্রতিমা ভাংচুর হওয়া নতুন কিছু নয়।
বুধবার ও বৃহষ্পতিবার রাতভর সরস্বতী প্রতিমা পাহারা দেওয়ার জন্য সকল
সনাতনীদের প্রতি আহবান জানান তারা।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জুয়েল হোসেন বুধবার
সন্ধ্যায় জানান, বিষয়টি নিয়ে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের
করা হয়নি।
এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাজীবের
সঙ্গে বুধবার বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিটে তার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও
যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
