Breaking News

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত আশাশুনির হাজারো দরিদ্র পরিবার,প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল সরকারি কম্বল: বেসরকারি উদ্যোগ নেই বললেই চলে

Spread the love

জি এম মুজিবুর রহমান:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের হাজার হাজার অসহায় মানুষ তীব্র শীতের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ শীতের প্রকোপে কাজকর্মে যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি রাতের বেলায় ঘুমাতেও কষ্ট পাচ্ছে।

উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে এবং চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার ১৭.৬ থেকে ২২ শতাংশের মধ্যে। শীত মৌসুমে এসব মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে প্রতি বছরই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সরকারি উদ্যোগে সীমিত পরিসরে কিছু কম্বল বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। এদিকে বেসরকারি উদ্যোগও চোখে পড়ার মতো নয়।

চলতি শীত মৌসুমে সরকারি বরাদ্দ হিসেবে আশাশুনি উপজেলায় গরম কাপড় ক্রয়ের জন্য ৬ লাখ টাকা পাওয়া যায়। উপজেলা প্রশাসন ওই অর্থ দিয়ে ১৩০২ পিচ কম্বল ক্রয় করে সারা উপজেলায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিরুল ইসলাম জানান, বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ভ্যাট বাবদ ১৭ শতাংশ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থে কম্বল কেনা হয়। এছাড়া মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ভান্ডার থেকে আরও ৫০০ পিচ কম্বল পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত কম্বলগুলো ইউনিয়ন পরিষদ, মাদ্রাসা, আশ্রয়ন প্রকল্প, গ্রাম পুলিশ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ৮২৫ পিচ, বিভিন্ন মাদ্রাসা ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে কয়েকশ পিচ এবং উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ৫৯৬ পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তবে একটি ইউনিয়নে মাত্র ৭৫ পিচ কম্বল বরাদ্দ থাকায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক সূত্র জানায়, কম্বল বিতরণের খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপজেলা চত্বরে ভিড় করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে পিআইওকে সাময়িকভাবে আত্মগোপনে যেতে হয়। এতে শীতার্ত মানুষের দুর্দশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রতি বছর বিভিন্ন এনজিও, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু কম্বল বিতরণ করা হলেও চলতি মৌসুমে সেই তৎপরতা প্রায় অনুপস্থিত। কেবল আনুলিয়া এলাকায় একটি স্থানীয় ব্লাড ব্যাংক ১ হাজার পিচ, বিদ্যুৎ বিভাগ ২০ পিচ এবং কুল্যায় স্থানীয়ভাবে অল্প কিছু কম্বল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ উপজেলায় ক্রেডিট ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনাকারী এনজিওগুলোর পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তা না থাকায় সাধারণ মানুষ হতাশ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন,“শীতের তীব্রতায় শীতার্ত মানুষ কষ্টে রয়েছে। আমার যোগদানের আগেই ১৩০২ পিচ কম্বল ক্রয় করা হয়েছিল। কম্বলের মান মোটামুটি ভালো এবং সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হচ্ছে। বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

About dainiksatkhira24

Check Also

আশাশুনিতে ইএসডিও’র মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শনে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক

Spread the love জি এম মুজিবুর রহমান: সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার আশাশুনি উপজেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com