
ফারুক সাগর : দীঘি না এ যেন খেলার মাঠ। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বালিয়াদহ গ্রামের একমাত্র সরকারি দীঘি খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে,দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সাড়ে চার বিঘা দীঘিটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর কচুরিপানা থাকায় ভরাট হতে চলেছে দীঘিটি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন বিস্তৃত এক খেলার মাঠ। প্রতি দিন শত মানুষ এই দীঘি ব্যবহার করে। কেউ গোসল করে,কেউ এই দীঘির পানি রান্নার কাজে ব্যবহার করে। এই দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শতবর্ষী প্রাচীন বালিয়াদহ বাজার,নামাজ পড়ার জন্য তৈরি হয়েছে পানযাখানা,মসজিদ।সেই সাথে স্থানীয় জন সাধারণের পানির চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে একটি সোলার প্যানেল যুক্ত উন্নত মানের সুপেয় পানি শোধনাগার স্থাপন করা হয়। যা প্রায় বছর দুয়েক পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
বালিয়াদহ ওয়ার্ড বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান,দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় দীঘিটির আজ এই অবস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
তালা উপজেলা যুব দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও মাগুরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জি এম শাহীন জানান,সরকারী দীঘি হওয়ায় আমরা কিছু করতে পারছি না। দীঘিটি এভাবে পড়ে থাকলে চলতি গ্রীষ্ম কালে শুকিয়ে যাবে। ফলে এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেবে।স্থানীয় গৃহিণী আফিরোন বেগম জানান,আমরা গরীব মানুষ। টাকা দিয়ে জারের পানি কিনতে পারি না। একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় গ্রামে আর একটি পুকুর ফিল্টার আছে। কিন্তু আয়তনে ছোট হওয়ায় পুকুরে গরম কালে পানি থাকে না। আর যেটুকু থাকে তা পানের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন জানান,এই ওয়ার্ডে প্রায় ১২ শত পরিবার বসবাস করে। এলাকার অধিকাংশ টিউবয়েলের পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকে। আবার কিছু টিউবয়েলের পানি নোনা এবং আর্সেনিকযুক্ত হওয়ায় পুকুর ফিল্টারই একমাত্র ভরসা যদিও সরকারের রেইন ওয়াটার হারভেষ্ট প্রকল্প চালু আছে। তারপরও পুকুর ফিল্টারের উপর মানুষ নির্ভরশীল। এলাকায় একটি মাত্র পুকুর ফিল্টার চালু আছে। দীঘিটি সংস্কার করা হলে সোলার প্যানেল যুক্ত উন্নত মানের পানি শোধনাগার চালু রাখা হলে এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দূর হবে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা: সঞ্জীব দাশ জানান,এই মূহুর্তে দীঘি খননের কোন প্রকল্প নেই। তবে প্রকল্প আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খননের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় তালা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখিত ভাবে আমাদের জানালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহজ হবে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
