কালিগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ফারজানা হত্যা গ্রেপ্তারকৃত মামুনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

Spread the love

রঘুনাথ খাঁ : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা -কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রহিমের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন শুনানী শেষে সাতক্ষীরা আমলী আদালত-২ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মেহেদী হাসান মঙ্গলবার দুপুরে এ আদেশ দেন।গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৩) কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের মোঃ লতিফ শেখের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে কাজলা- কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা সুলতানা(৯) গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে এসে আর বাড়ি ফেরেনি। পরবর্তীতে রাতে বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া বেগমের(২৫) বাড়ির দেয়াল আলমারির ভিতর থেকে ফারজানার হাত ও পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুমাইয়ার বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ শেষে তাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ইট ও হাতুড়ি দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ফারজানার হত্যার ঘটনায় তার মা নাজমা খাতুন বাদি হয়ে ২২ জুলাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহত সুমাইয়ার ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামী শ্রেণীভুক্ত করা হয়। ২৩ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশ তাকে দেবহাটার সুবর্ণাবাদের নানা জেহের আলীর বাাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। ২৫ জুলাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুর রহিম।
আসামীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ ইফতেখার আলী।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন উপপরিদর্শক (সিএসআই) বিশ্বনাথ রায়।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনউদ্দিন আসামী আব্দুল্লাহ আল মামুনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মোঃ আব্দুর রহিম জানান,আগামীকাল বুধবার আসামী মামুনকে জেলখানা থেকে থানা হেফাজতে নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের এনামুল হকের পরিবারের সুসম্পর্ক ছিল। সুমাইয়ার স্বামী আমিরুল ইসলাম মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ি হওয়ায় ঋণের জালে পড়ে কয়েক মাস আগে মাদারীপুরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যায়। আমিরুল মাদকাসক্ত হওয়ায় বিয়েতে ঘটক হিসেবে ভূমিকা পালনকারি এন্তোফা মোড়লের ছেলে হামিদুল মোড়লের সাথে সুমাইয়ার ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনের সম্পর্কের অবনতি হয়। একপর্যায়ে গত ২০ জুলাই রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ির বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে দিয়ে দ্বিতীয়বার তল্লাশী করে সুমাইয়ার পিছনের জানালার দুর্বল পাল্লাযুক্ত ঘরের দেয়াল আলমারি থেকে ফারজানার হাত- ও পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে ক্ষুব্ধ জনতা। এরপর পুলিশের কাছ থেকে সুমাইয়াকে কেড়ে নিয়ে হামিদুল মোড়লের নেতৃত্বে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। দুটি লাশের দাফন ২১ জুলাই সম্পন্ন শেষে ফারাজানার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হলেও স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের বাধার মুখে সুমাইয়ার লাশ ২৩ জুলাই রাত ১১টার সময় কোন কাগজপত্র ছাড়াই নিহতের বাবা লতিফ শেখের কাাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত ১টায় কাশিবাটি গ্রামের কলুইমেদে নামকস্থানে ওই লাশ দাফন করা হয়। প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির পরামর্শে পুলিশ হত্যাকারিদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে না পেরে ২৬ জুলাই লতিফ শেখ মেয়ে সুমাইয়া হত্যার ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। লতিফ শেখ আদালতে মামলা করতে যাবেন এমন খবর পেয়ে আগের রাতেই প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি প্রভাব খাটিয়ে পুলিশের সহায়তায় সুমাইয়ার স্বামী আমিরুল ইসলামকে দিয়ে হত্যাকান্ডের প্রকৃত তথ্য গোপন করে কারো নাম উল্লেখ না করে যেন তেন প্রকারে একটি হত্যা মামলা দায়ের করান।#

About dainiksatkhira24

Check Also

কালিগঞ্জের এআই ক্লিনিকে ডাঃ তানিয়ার ভুল সিজারে রোগী সাবিনার মৃত্যু

Spread the loveরঘুনাথ খাঁ: কোন বিশেষজ্ঞ এনেসথেসিয়া ছাড়া সিজার করতে যেয়ে সাবিনা খাতুন নামের এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com