Breaking News

আশাশুনির কাকবসিয়ার বহুল আলোচিত জাহাঙ্গীর গাজী পুলিশের খাঁচায়

Spread the love

রঘুনাথ খাঁ ঃ যাত্রীবাহি বাসে নিজের সিটের পাশের মহিলা যাত্রীর সঙ্গে ভাই বোনের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে বাসায় নিয়ে বিরানীর সঙ্গে চেতনানাশক খাওয়ানোর পর ধর্ষণ ও ধর্ষণের চিত্র ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মেয়ের জন্মদিনের কথা বলে আবারো বাসায় আসতে বাধ্য করে ধর্ষণ ও নতুন করে ভিডিও চিত্র ধারণ করার অভিযোগে পুলিশ বহুল আলোচিত প্রতারক জাহাঙ্গীর গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে তাকে সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউজ মোড়ের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর গাজী(৩৪) আশাশুনি উপজেলার কাকবসিয়া গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর ছেলে।
ঘটনা ও মামলার বিবরনে জানা যায়, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের এক সন্তানের জননী গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীর দিন বাপের বাড়ি কালিগঞ্জের কুশুলিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে বাস যোগে শ^শুরবাড়ি যাচ্ছিল। কালিগঞ্জ বাসস্টাÐ থেকে বাসে ওঠার পরপরই পাশের সিটে বসা আশাশুনির কাকবসিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর গাজীর পরিচয় হয়। মোবাইলে টাকা নেই বলে ওই নারীর নগদে থাকা ২০ টাকা রিচার্জ করে নেয় জাহাঙ্গীর। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর মোবাইল ফোনে তার বোন মারা গেছে সে হিসেবে তাকে বোন হিসেবে সম্মান করতে শুরু করে। সেখান থেকে মোবাইলে জাাহাঙ্গীর ওই নারীর সাথে প্রায়ই কথা বলতো। একপর্যায়ে গত ৪ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে ওই নারীকে শহরের ইটাাগাছার চিত্তর মোড়ে সুন্দরবন ক্যুরিয়র সার্ভিসের পাশর্^বর্তী একটি চারতলা বাড়ির তিন তলায় ডেকে নিয়ে বিরিয়ানির সাথে চেতনানাশক খাওয়ানোর পর তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে জাহাঙ্গীর। ওই নারীর জ্ঞান ফেরার পর বিষয়টি কাউকে জানাজানি করলে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ওই ভিডিও মুছে ফেলে দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে ডেকে এন গত ১০ জুন খুলনা রোডের মোড় থেকে সার্কিট হাউজ মোড়ের এক বাসায় ডেকে নিয়ে তাকে দ্বিতীয় দফায় ধর্ষণ করে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। ওই ভিডিও জাহাঙ্গীর তার বন্ধু ০১৭৬২-৬৪২১২১ নং মোবাইল ব্যবহারকারিকে দেয়। এরপর স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে তাকে বিয়ে না করলে পরিণতি ভাল হবে না বলে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। ওই নারীর ছবি এডিট করে জাহাঙ্গীর কয়েক জায়গায় ছড়িয়ে দেয়।ওই নারীর স্বামী বিদেশে থাকায় সে অসহায় হয়ে পড়ে। এবার তালার শহীদ মুািক্তযোদ্ধা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও জাহাঙ্গীর তাকে অপহরণের হুমকি দেওয়ায় ওই নারী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এ ঘটনাসহ জাহাঙ্গীরের প্রতারণার কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করে গত ৬ জুলাই উত্তরাধিকার নিউজ পোর্টালে ও ৭ জুলাই দৈনিক পত্রদূতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খবর জানতে পোরে গত ৭ জুলাই সাতক্ষীরা জজ কোর্ট থেকে নোটারী পাবলিক অ্যাড, রেজা উদ দৌলার সাক্ষর বসিয়ে একটি কৃত্রিম বিবাহের এফিডেফিট তৈরি করে জাহাঙ্গীর। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র ওই নারীর আশাশুনির ভগ্নিপতির কাছে নিয়ে সত্য বলে প্রমাণ করতে চায় জাহাঙ্গীর। জাহাঙ্গীর উত্তরাধিকার’৭১ এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধিকে জীবন নাশের হুমকি দেয় ফেইসবুকে। এদিকে ওই নারী তার শিশু সন্তানকে নিয়ে গত ৮ জুলাই আশাশুনির ভগ্নিপতির বাড়িতে যাওয়ার পথে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সহযোগী কামরুল, ইয়াছিন এর সহযোগিতায় কালিবাড়ি বাজারের পাশ থেকে সন্তানসহ অপহরণ করে শহরের সার্কিট হাউজ মোড়ের সেই বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বের ভিডিও ফেরৎ দেওয়ার কথা বলে তাকে আবারো ধর্ষণ করে তার ভিডিও চিত্র ধারণ করে। এরপর তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে একটি ইজিবাইকে তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে ও তার ডাকে না এলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ওই নারী সকলের সঙ্গে পরামর্শ করে একজন মানবাধিকার কর্মীর সঙ্গে পরামর্শ করে মঙ্গলবার সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দেয়। পুলিশ বিষয়টি বিশ^াস না করার একপর্যায়ে জাহাঙ্গীরকে ওই নারীর স্বামী মোবাইল কথা বলতে যেয়ে ব্যস্ত রাখে। এমন সময় র‌্যাব জাহাঙ্গীরের অবস্থান নিশ্চিত করতে তাকে ফোন দেয়। পুলিশও সার্কিট হাউজ মোড়ে ওই নারী ও তার স্বজনদের নিয়ে দরজার কড়া নাড়ে। ভিতর থেকে দরজা দিয়ে জাহাঙ্গীর তার বন্ধুদের ডেকে তাকে গ্রেপ্তার না করার চেষ্টা চালায়। থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে জাহাঙ্গীরকে নিয়ে যায়।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান,মঙ্গলবার বিকেলে ওই নারীর দেওয়া ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)/৩০ ধারা তৎসহ পেনাল কোডের ৫০৬ ধারায় মামলা(জিআর-৩৬৬/২৫ সদর) রেকর্ড করা হয়। মঙ্গলবার ভিকটিম ও তার মাকে থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়। বুধবার তাকে সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়। আসামী জাহাঙ্গীরকে বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আসামীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটির ডিলেট করা নগ্ন ভিডিও এবং স্থির ছবি ফিরে পাওয়ার জন্য ঢাকায় ফরেনসিক ল্যাবরেটরীতে পাঠানো হয়েছে। ছবি উদ্ধার হলে ধর্ষণের সঙ্গে পর্ণোগ্রাফি আইনের ধারা সংযোজন করার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, যাত্রীবাহি বাসে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভাই সম্পর্ক পাতিয়ে কয়েক মাস আগে কালিগঞ্জের ফতেপুরের নয়ন, ও রাকিব ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে চাকুরি দেওয়ার নাম করে ৪০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল সেট নিয়েছে জাহাঙ্গীর। এ ছাড়া তালা উপজেলার জালালপুরের জনৈক নির্মাণ শ্রমিক বর্তমানে বঙ্গবন্ধু পেশাবিত্তিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া বেকারী শ্রমিক চয়নের কাছ থেকে মুহুরীর কার্ড করে দেওয়ার নাম করে দুই হাজার টাকা নেয় জাহাঙ্গীর।

উপজেলার তার শশুরবাড়ি তালা উপজেলার ফতেপুর এলাকায়। স্বামী বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাওয়ায় মাঝে মাঝে বাপের বাড়ি থেকে শ^শুরবাড়ি যেতেন তিনি। তালা মুক্তিযোদ্ধা কলেজ থেকে তার এবার এইচ্সসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বাপের বাড়ি থেকে শ^শুরবাড়ি যাওয়ার পথে কালিগঞ্জ থেকে বাস ছাড়ার ুকছুক্ষণ পরই জাহাঙ্গীর কবীরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। জাহাঙ্গীর নিজেকে বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক বলে পরিচয় দেয়। নিজের ফোনে টাকা না থাকায় কল করতে পারছেন না বলায় জাহাঙ্গীর নাম্বার চেয়ে তাকে ২০ টাকা ভরে দেয়। এরপর থেকে জাহাঙ্গীর তার সাথে নিয়মিত কথা বলতো। এক মাস আগে সে তার বাচ্চাকে নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার ব্যাপারে তালা মুক্তিযোদ্ধা কলেজে যাওয়ার সময় বাসে নলতা পৌঁছানোর পরপরই তাকে ফোন দেয় জাহাঙ্গীর। মেয়ের জন্মদিন বলে তাকে শহরের খুলনা রোডের মোড়ে বাস থেকে নামতে বলে জাহাঙ্গীর। ভ্যানে করে সন্তানসহ তাকে সার্কিট হাউজ মোড় এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যায় জাহাঙ্গীর। সেখানে কেউ না থাকায় চলে আসতে গেলে তাকে দুপুরের খাওয়ার জিসেবে এক প্যাকেট বিরিয়ানি খেতে দেয়। কিছুক্ষণ পর ওই নারী সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। এরপর থেকে তাকে আবারো বাসায় দেখা করার কথা বলে জাহাঙ্গীর। রাজী না হওয়ায় তার মায়ের নাম্বার ও স্বামীর নাম্বার জোগাড় করে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেয় জাহাঙ্গীর। তাকে বিয়ে করা হয়েছে এমন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটানার হুমকিও দেওয়া হয়। তার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখলে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে অপহরণের হুমকি দেয় জাহাঙ্গীর কবীর। ভয়ে ওই নারী পরীক্ষায় বসেনি। এরপরও হুমকি অব্যহত আছে।

যাত্রী হিসেবে গাড়িতে সাক্ষাৎ। তারপর পরিচয়ের সূত্র ধরে কারো ভাই, কারো বোন বা কাউকে মা ডেকে স্বার্থ হাসিল করে থাকেন প্রতারক জাহাঙ্গীর কবীর। অথচ তার পরিচয় কেউ জানে না। জানে না তার পেশার কথা। গত আট মাসে জাহাঙ্গীরের হাতে প্রতারিত হওয়া কমপক্ষে ছয়জন নারী ও পুরুষকে রাখা হয়েছে হুমকির মধ্যে। দ্বিতীয়বার দেখা না করতে চাওয়ায় স্বামীর কাছে বা পরিবারের কাছে ভিডিও এডিট করে পাঠিয়ে সংসার ভেঙে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে ওই জাহাঙ্গীর কবীর। সম্প্রতি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ফতেপুর, জিরেনগাছা, তালার জালালপুর, যশোরের শার্শা উপজেলার সাত মাইল ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
কালিগঞ্জের ফতেপুর গ্রামের আলফাজ হোসেনের ছেলে নয়ন ইসলাম বলেন, প্রায় নয় মাস আগে একদিন বিকেল চারটার দিকে তারা পাঁচজন দুটি মটর সাইকেলে দেবহাটায় যাচ্ছিলেন। ভদ্রখালি মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় এক বৃদ্ধকে ধাক্কা দেয় তার বন্ধু রাকিবুল। সেখানে তার মটর সাইকেল আটকে দেয় স্থানীয়রা। তিন দিন পর ওই বৃদ্ধ মারা গেলে ৭০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের মটর সাইকেল ছাড়িয়ে আনতে হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার পরদিন ওই বৃদ্ধকে অ্যম্বুলেন্সে খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হলেও বাসে যাওয়ার সময় রাকিবুলের মা ও ফুফুর সাথে পরিচয় হয় জাহাঙ্গীর কবীরের। সে চলে যায় হাসপাতালেও । গড়ে তোলে সখ্যতা। রাকিবুলকে ভাই ও মাকে মা ডাকতে শুরু করে জাহাঙ্গীর। আসতো তাদের বাড়িতে। ১০ হাজার টাকাসহ বায়োডাটা, জাতীয় পরিচয়পত্র, স্ট্যাম্প সাইজের রঙিন ছবি নিয়ে তার ও রাকিবুলকে সাতক্ষীরা কোর্টের আইনজীবী সহকারিতে জাকুরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাতক্ষীরা জজ কোর্ট এলাকার প্যারাডাইস হোটেলে রেখে দেয় কয়েকদিন। এর আগে রাকিবুলের বোনের খির খাওয়া অনুষ্ঠানে ওঠা আড়াই হাজার টাকা ও রাকিবুলের মায়ের কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে পরে দেওয়ার কথা বলে জাহাঙ্গীর। একপর্যায়ে হোটেলে খাবারের সাথে চেতনানাশক খাওয়াতো জাহাঙ্গীর। পরে তাদেরকে চেতনানাশক খাইয়ে ঘুমিয়ে পড়া অবস্থায় কাছে থাকা আটশত টাকা ও দুটি মোবাইলসহ জামা কাপড় নিয়ে সটকে পড়ে জাহাঙ্গীর। এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০০ টাকা চেয়ে বাসে মুহষকুড় আসেন রাকিবুল ও নয়ন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে তারা বাড়িতে পৌঁছায়।এরপরও বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে মোবাইল ফোনে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে জাহাঙ্গীর কবীর। সে তার নিজের বাড়ি আশাশুনি উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে বললেও চেষ্টা করে তার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে রাকিবুলের ছোট চাচার কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা নিয়েছে বলে জানা গেছে।
একইভাবে তালা উপজেলার জালালপুরের তুহিন ঘোষ ও শার্শার তুফান নামের এক যুবকের সাথে যথাক্রমে বাসে ও ইজিবাইকে পরিচয় সূত্রে তাদের পরিবারের সাথে সখ্যতা রেখে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে চার মাস আগে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় জাহাঙ্গীর কবীর। একইভাবে তাদেরকে পৃথকভাবে প্যারাডাইস হোটেলের ১১ নং রুমে রেখে ভাতের সাথে চেতনানাশক খাইয়ে মোবাইল ও টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় জাহাঙ্গীর কবীর। এখনও জাহাঙ্গীর কবীর বিভিন্ন সময়ে নয়ন ও রাবিকুলকে সাতক্ষীরায় তার সাথে দেখা করার জন্য ও পূর্বের ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভয় দেখাচ্ছে।
কালিগঞ্জের জিরেনগাছার হিন্দু সম্প্রদায়ের এক সন্তানের জননী জানান, তার শ^শুরবাড়ি তালা উপজেলার ফতেপুর এলাকায়। স্বামী বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাওয়ায় মাঝে মাঝে বাপের বাড়ি থেকে শ^শুরবাড়ি যেতেন তিনি। তালা মুক্তিযোদ্ধা কলেজ থেকে তার এবার এইচ্সসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বাপের বাড়ি থেকে শ^শুরবাড়ি যাওয়ার পথে কালিগঞ্জ থেকে বাস ছাড়ার ুকছুক্ষণ পরই জাহাঙ্গীর কবীরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। জাহাঙ্গীর নিজেকে বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক বলে পরিচয় দেয়। নিজের ফোনে টাকা না থাকায় কল করতে পারছেন না বলায় জাহাঙ্গীর নাম্বার চেয়ে তাকে ২০ টাকা ভরে দেয়। এরপর থেকে জাহাঙ্গীর তার সাথে নিয়মিত কথা বলতো। এক মাস আগে সে তার বাচ্চাকে নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার ব্যাপারে তালা মুক্তিযোদ্ধা কলেজে যাওয়ার সময় বাসে নলতা পৌঁছানোর পরপরই তাকে ফোন দেয় জাহাঙ্গীর। মেয়ের জন্মদিন বলে তাকে শহরের খুলনা রোডের মোড়ে বাস থেকে নামতে বলে জাহাঙ্গীর। ভ্যানে করে সন্তানসহ তাকে সার্কিট হাউজ মোড় এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যায় জাহাঙ্গীর। সেখানে কেউ না থাকায় চলে আসতে গেলে তাকে দুপুরের খাওয়ার জিসেবে এক প্যাকেট বিরিয়ানি খেতে দেয়। কিছুক্ষণ পর ওই নারী সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। এরপর থেকে তাকে আবারো বাসায় দেখা করার কথা বলে জাহাঙ্গীর। রাজী না হওয়ায় তার মায়ের নাম্বার ও স্বামীর নাম্বার জোগাড় করে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেয় জাহাঙ্গীর। তাকে বিয়ে করা হয়েছে এমন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটানার হুমকিও দেওয়া হয়। তার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখলে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে অপহরণের হুমকি দেয় জাহাঙ্গীর কবীর। ভয়ে ওই নারী পরীক্ষায় বসেনি। এরপরও হুমকি অব্যহত আছে।
এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীর কবীরের ব্যবহৃত ০১৫৪০-৫৪৮১৩৮,০১৬১০-৪৪৩৪১৫ ও ০১৯১৩-৫৪৫৫৬৯ নং মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

About dainiksatkhira24

Check Also

আশাশুনিতে ইএসডিও’র মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শনে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক

Spread the love জি এম মুজিবুর রহমান: সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার আশাশুনি উপজেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com