
জি এম মুজিবুর রহমান: আশাশুনি উপজেলায় বেতনা নদী খননের পর নদীর পাশে রাখা মাটি অবাধে কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে এসব মাটি কেটে ভলগেট (বাল্কহেড) ও ট্রলিযোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে নদীর পাড় ও বাঁধের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে মাটি পরিবহনের কারণে ওয়াপদার রাস্তা, সরকারি ইটের রাস্তা এবং ছোট পিচঢালা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেতনা নদী খননের পর উত্তোলিত মাটি নদীর দুই পাশে স্তূপাকারে রাখা হয়। এসব মাটি বাঁধের মতো কাজ করছে। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করা মাটি কেটে ভলগেট ও ট্রলিতে বোঝাই করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রলি চালক আবু তালেবের ছেলে হাবিবুল্লাহ, সাবুদালীর ছেলে রাজ্জাক, সিরাজুলের ছেলে জহিরুল, মৃত মধুর ছেলে সিরাজুল ও সুফিয়া খাতুনের ছেলে সবুজ প্রতিদিন মাটি কেটে তাদের ট্রলিতে ভরে বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে নির্দিষ্ট অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করে থাকে।
মাটি কাটার কাজে জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা মাটি কাটার বিষয়ে কোনো অনুমতি নেননি বলে জানিয়েছেন। ফলে সরকারি প্রকল্পের আওতায় উত্তোলিত এসব মাটি কার অনুমতিতে কাটা ও বিক্রি করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে নদীর পাড় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। মাটি কেটে নেওয়ার ফলে নদীর তীরে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, দুর্বল হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ ও নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এই জনপদে নদীর পাড় ও বাঁধের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, ভলগেট ও ভারী ট্রলিতে করে মাটি পরিবহনের কারণে ওয়াপদার রাস্তা, নওয়াপাড়া পুরাতন খেয়াঘাটের ইটের রাস্তা এবং মহেশ্বরকাটি থেকে চাপড়া গ্রামীণ পিচঢালা সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বালিভর্তি ভারী যানবাহন চলাচলে রাস্তার স্থায়িত্ব কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব রাস্তা সংস্কারে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও অবাধে মাটি পরিবহনের কারণে সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী মাটি ব্যবস্থাপনার বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। সরেজমিন তদন্ত করে মাটি কাটা ও বিক্রির বৈধতা যাচাই, নদীর পাড় ও বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সরকারি সড়ক রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, নদীর মাটি যাতে কেউ কেটে নিতে না পারে এবং রাস্তা নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
