
নিউজ ডেস্ক:
দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন অতিরিক্ত পর্যটকের চাপের কারণে মারাত্মক পরিবেশগত হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার জন্য সরকার নিয়ন্ত্রিত পর্যটন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দ্বীপের পর্যটন কার্যক্রম মাত্র চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের খসড়া মহাপরিকল্পনায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জন পর্যটক প্রবেশের সীমা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বে একসঙ্গে রাত যাপন করতেন ৭,১৯৩ জন পর্যটক, যা দ্বীপের ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ। অতিরিক্ত পর্যটনের ফলে প্রবাল সংগ্রহ বৃদ্ধি, নৌযান থেকে দূষণ এবং সমুদ্রসৈকতে আবর্জনার চাপ বেড়ে গেছে।
খসড়া মহাপরিকল্পনায় সেন্টমার্টিন দ্বীপকে চারটি জোনে ভাগ করার প্রস্তাব রয়েছে:
- জোন–১ (সাধারণ ব্যবহার এলাকা): পর্যটন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সীমিত; হোটেল-রিসোর্ট এখানে থাকবে; রাতযাপন অনুমোদিত।
- জোন–২ (নিয়ন্ত্রিত সম্পদ এলাকা): দিনে পর্যটক প্রবেশ সম্ভব; রাতযাপন নিষিদ্ধ; কচ্ছপ প্রজনন এলাকা; ক্ষতিকর রাসায়নিক নিষিদ্ধ।
- জোন–৩ (টেকসই ব্যবস্থাপনা এলাকা): বসতি ও অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ; ম্যানগ্রোভ বন ও ল্যাগুন সংরক্ষিত।
- জোন–৪ (সংরক্ষিত এলাকা): সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত; মাছ ধরা ও দূষণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধ।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “সেন্টমার্টিন ও পর্যটন কখনোই সমার্থক হতে পারে না; দ্বীপের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সংরক্ষণ।”
পরিকল্পনায় বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, পর্যটন নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় জীবিকা রক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বাস্তবায়নে কঠোরতা না আনলে সেন্টমার্টিন ভবিষ্যতে কেবল স্মৃতিতেই বেঁচে থাকবে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
