Breaking News

ছাত্রলীগ থেকে সমন্বয়ক, দানের টাকায় পড়াশোনা করা রিয়াদের এখন পাকা বাড়ি

Spread the love

নিউজ ডেস্ক:
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ থেকে উঠে এসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে পরিচিতি পান আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ। রাজধানীর গুলশানে গত শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদাবাজির সময় চার সহযোগীসহ হাতেনাতে আটক হন তিনি। আটক হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং সংগঠন থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়।

রিয়াদের গ্রেপ্তারের পর তার নিজ জেলা নোয়াখালীতে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের নবীপুর বাজার এলাকার ছেলে রিয়াদের পারিবারিক পটভূমি ছিল অত্যন্ত সাধারণ। স্থানীয়রা জানান, তার দাদা এবং বাবা দুজনেই ছিলেন রিকশাচালক। পরে তার বাবা দিনমজুর হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। মা নাজমুন নাহার গৃহিণী, এক সময় অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন।

দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট রিয়াদ। বড় ভাই চট্টগ্রাম একটি ফিশারিজ কোম্পানিতে চাকরি করেন।

রিয়াদের সহপাঠীরা জানান, স্থানীয় নবীপুর হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন রিয়াদ। পরে ভর্তি হন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সরকারি মুজিব মহাবিদ্যালয়ে। সেখানে গিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সাবেক সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার হাতে ফুল দিয়ে ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছিলেন। যুক্ত হন তার বাহিনীতে। পরে সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকায় গিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এক পর্যায়ে কোটা বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। হয়ে ওঠেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা। ৫ আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে ধীরে ধীরে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন।

রিয়াদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পাল্টে গেছে আগের পরিবেশ। নেই আগের ভাঙাচোরা ঘরদোর। আগের ঘরের পাশে নির্মিত হচ্ছে পাকা ঘর। পাকা ঘর নির্মাণ করার পাশাপাশি রিয়াদ কিনেছেন দামি গাড়িও।

ছেলে সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করেছেন রিয়াদের মা-বাবা তা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। রিয়াদের মা নাজমুন নাহার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা না খেয়ে ওকে শহরে পাঠাইছি। ছেলেটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত, ভালোই ছিল। টিভিতে দেখি আমার ছেলেকে পুলিশে ধরেছে। শুনেছি সে নাকি চাঁদাবাজি করেছে। এটা আমার বিশ্বাস হয়না। আমার ছেলেকে কেউ ষড়যন্ত্র করে চাঁদাবাজ বানিয়েছে।’

রিয়াদের পাশের বাড়ির এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রিকশা চালানোর মাধ্যমে যে পরিবার চলত, দিন এনে দিন খেতে হতো। সেখানে ৫ আগস্টের পর রিয়াদের বিলাসী জীবনযাপন, ছাদ ঢালাই করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করা দেখে আমরা অবাক হয়েছি।’

জানা যায়, রিয়াদ ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। গত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সমন্বয়ক পরিচয়ে হয়ে ওঠেন চাঁদাবাজ। সমন্বয়কের মুখোশ পরে কিভাবে গ্রামের এক হতদরিদ্র রিকশাওয়ালা পরিবারের ছেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন এবং বিলাসী জীবন যাপন করে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গ্রামবাসী। যদিও তার ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।

নবীপুর হাই স্কুলের সাবেক সভাপতি শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমার স্কুলের এই ছাত্রকে সবাই দান-খয়রাত করে পড়াত, কারণ তার দরিদ্র রিকশাচালক বাবার পক্ষে পড়ালেখার খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। সে কিভাবে এত ভয়ংকর চাঁদাবাজ হয়ে উঠল তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।’

সাধারণ পরিবার থেকে শহরে উঠে আসা সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া এমন আরও রিয়াদ সমাজের আড়ালে লুকিয়ে আছে কি না প্রশাসনকে তা খুঁজে বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে আটক রিয়াদের ছবির ফ্রেমে আছেন কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা। ফেসবুকে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে নিজের শক্তির জানান দিতেন তিনি। তার ছবির ফ্রেমে বাদ যাননি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও। একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে ছবি পাওয়া গেছে তার ফেসবুকে।

About dainiksatkhira24

Check Also

সুন্দরবনে মধুসংগ্রহকালে ঝড়ের কবলে পড়ে ভারতে ঢুকে পড়া ৪ মৌয়াল উদ্ধার

Spread the love রঘুনাথ খাঁ: সুন্দরবনে মধু সংগ্রহকালে ঝড়ের কবলে পড়ে দিক হারিয়ে ভারতে ঢুকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com