Breaking News

কালিগঞ্জে ঘের ব্যবসায়ি সঞ্জীব সরকার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার-১

Spread the love

রঘুনাথ খাঁ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর
গ্রামের ঘের মালিক সঞ্জীব সরকার হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা
হয়েছে| নিহতের বাবা গোপাল সরকার বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ
করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০ জনের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে এ মামলা দায়ের
করেন| পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নেপাল সরকার নামের
একজনকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে|
গ্রেপ্তারকৃত নেপাল সরকার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের
মৃত অনন্ত সরকারের ছেলে|
মামলার এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন, ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের গঙ্গাধর
সরকারের ছেলে আনন্দ সরকার, একই গ্রামের নেপাল সরকারের ছেলে তাপস
সরকার ওরফে ডালিম,আনন্দ সরকারের ছেলে শাওন সরকার ও মৃত অনন্ত সরকারের
ছেলে নেপাল সরকার|
সরেজমিনে বৃহষ্পতিবার সকালে ঠেকরা রহিমপুর গ্রামে গেলে মাষ্টার
বিজয় সরকার জানান, তাদেও শরীক গোপাল সরকার ঠেকরা বিলে ২২ বিঘা
মাছের ঘের করেন| তার ছেলে সঞ্জীব সরকার আট বিঘা ঘের করেন| গোপাল
সরকারের ছোট ভাই পঞ্চানন সরকার ১৫ বছর আগে মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী
মাধবী সরকারের কাছ থেকে তাপস সরকার ওরফে ডালিম ১২ বিঘা ও সঞ্জীব
সরকার তিন বিঘা জমি লীজ নিয়ে তৃতীয় বছরের জন্য মাছ চাষ করতো|
৪৫ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা লীজ বাবদ তার কাকিমা
মাধবীকে পরিশোধ করেছে সঞ্জীব| গত ৩১ মে রাতে সঞ্জীব সরকার
তাপসের ঘের থেকে মাছ চুরি করেছে মর্মে অভিযোগ ওঠে| এক সপ্তাহ
পর এনিয়ে গ্রামের পশুপতি সরকারের বাড়িতে শালিসি ˆবঠক হলেও
সঞ্জীবের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি| এনিয়ে তাপস সরকার,
আনন্দ সরকার, নেপাল সরকারু ও শাওন সরকারের সাথে সঞ্জীবের বিরোধ চলে

আসছিলো| সঞ্জীবের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগ ছিল বলে জানান
ওই শিক্ষক|

গোপাল চন্দ্র সরকার জানান, তাপসের ঘেরে চুরির অভিযোগের সত্যতা
না মেলায় সঞ্জীবের উপর ক্ষোভ ছিল আনন্দ, তাপস, নেপাল ও শাওনের| সঞ্জীব
নেশা করতো এমন কথা জানতে পেরে তিনি গত পহেলা জুন থেকে ২৯
জুন পর্যন্ত বাড়ির বাইওে যেতে দেনননি| নিজের ও ছেলের ঘের তিনি
নিজেই দেখাশুনা করতেন| ৩০ জুন সঞ্জীবকে নিয়ে তিনি আবারো ঘেরে
যান| খবর পেয়ে তাপসের নেতৃত্বে আনন্দ ও শাওন দা ও লাঠি নিয়ে ধাওয়া
করলে সঞ্জীব দৌড়ে বাড়ির ছাঁদে উঠে জীবন বাঁচায়| বিষয়টি তিনি
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান|

গোপাল সরকার আরো জানান, মঙ্গলবার বিকেলে সঞ্জীব ও তিনি নিজেদের
ঘেরে ১৪টি আটল পাতেন| সঞ্জীবকে সেখানে রেখে বিলান জমির ঘেরে
আটল পাততে যান তিনি| সেখান থেকে বাড়িতে এসে সঞ্জীবকে না
পেয়ে রাত ৯টার দিকে তাকে খুঁজতে যান তিনি| তাকে না পেলেও ঘেরের
বাসায় সঞ্জীবের পরিহিত জামা কাপড় দেখতে পান তিনি| এরপর তাকে
মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন
তিনি| সঞ্জীবকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হয় তার শ^শুর
আশাশুনি উপজেলার হাড়িভাঙা গ্রামের হরিচাঁদ সরকারকে| বুধবার
সকালে নিজের মাছের ঘেরের সরু খালের পানিতে সঞ্জীবের জুতা ভাসতে
দেখেন| পরে খালের মধ্যে থাকা ঘাসের মধ্যে ছেলের লাশ দেখতে পান|
সঞ্জীবের বাম চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভারী জিনিস দিয়ে
আঘাতের চিহ্ন ছিল| পাশর্^বতী ঘেরের পাহারাদারসহ বিভিন্ন লোকজনের
সাথে কথা বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, তাপস, আনন্দ ও শাওনসহ
তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে মঙ্গলবার রাতে সঞ্জীবকে
নির্যাতন করে হত্যার পর ক্যানেলের ঘাসের নীচে লাশ গুমের চেষ্টা করেছে|
সঞ্জীবের মা মায়া রানী মণ্ডল তার ছেলে ও স্ত্রী প্রিয়া মণ্ডল ¯^ামী সঞ্জীব
হত্যার জন্য আনন্দ সরকার, নেপাল সরকার, তাপস সরকার ও শাওনকে দায়ী
করেন| তারা জানান, মঙ্গলবার রাতে তাপেেসর ঘেরের বাসায় বেঁধে রেখে
সঞ্জীবকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে| সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের

মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে সঞ্জীবের লাশ বুধবার রাতে স্থানীয় শ্মশানে সৎকার
করা হয়েছে| এ ব্যাপারে আনন্দ সরকার ও তাপস সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব
হয়নি|

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, সঞ্জীব
সরকার হত্যার ঘটনায় তার বাবা গোপাল সরকারি বাদি হয়ে আনন্দ সরকার,
নেপাল সরকার, তাপস সরকার ও আনন্দ সরকারের ছেলে শাওনের নাম উল্লেখসহ
অজ্ঞাতনামা ৮/১০জনকে আসামী করে বুধবার রাতে থানায় একটি হত্যা ও
লাশ গুমের চেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন| রাতেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার
পর অনন্ত সরকারের ছেলে নেপাল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে|
গ্রেপ্তারকৃত নেপাল সরকারকে বৃহষ্পতিবার দুপুরে আদালতের মধ্যেমে
জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে| তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৫
দিনের রিমাণ্ড আবেদন জানানো হবে| পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারের
জন্য মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক আব্দুর রহিমকে নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে|

About dainiksatkhira24

Check Also

কালিগঞ্জে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বি.এন.পি নেতা রোকন

Spread the loveনিজস্ব প্রতিবেদক : কালিগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিক দক্ষতা আর জনপ্রিয়তায় বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে মধ্যমণি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com