Breaking News

নিয়োগ বাণিজ্যের সিন্ডিকেটের কবলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের প্রধান হিসাব সহকারী মোস্তাজুল ইসলাম ,ইপি আই ইনচার্জ ( মেডিকেল টেকনলজজিষ্ট ) ফারুক হোসেন, পরিচালকের ড্রাইভার বসির উদ্দীন এই সিন্টিকেটের মুল হোতা বলে দাবী করছে সামেক হাসপাতালের একটি সুত্র ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সামেক হাসপাতালে রাজত্ব করা বরিশালের প্রমা গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে হাটিয়ে চলতি বছরের জুন মাসে টেন্ডার পান খুলনার টি ফোর এস নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান । বিজ্ঞপ্তিতে ৫৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের দরপত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলেও বিধি অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়নি। এর পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সুপারিশ পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে সামেকের একাধিক সুত্র।

নাম না জানানোর শর্তে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মরত একাধিক আউটসোর্সিং কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যার বিগত দিনে ৭/৮বছর কাজ করছে তার বঞ্চিত হচ্ছেন। পরিচালককে জিম্মি করে হাসপাতালের প্রধান সহকারী মোস্তাজুল ইসলাম ,ইপি আই ইনচার্জ ( মেডিকেল টেকনলজজিষ্ট ) ফারুক হোসেন, পরিচালকের ড্রাইভার বসির উদ্দীন হাসপাতালে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে । চলতি মাসের ৩০ জুন ৫৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের কথা রয়েছে । এর মধ্যে ওই তিনজন মিলে তিন থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে হাসাপাতালে স্বেচ্ছাসেবকদের বাদ দিয়ে নিজের আত্মীয় স্বজন ঢোকানের পায়তারা করছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন মাত্র কাগজে কলমে বাকী ।

তারা আরো বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় দেড় শতাধিক আউটসোর্সিং কর্মী ঝুলে থাকলেও চক্রটি নিজের আত্মীয় স্বজন এমন কি মোটাংকের টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানে গরু রাখালকে সাটিফিকেট জালিয়াতি করে তাকে চাকুরি দিয়েছে এর আগেই ।

তারা অভিযোগ করেন, মোস্তাজুলের ৮ জন , ফারুকের ৭ জন ও বসিরের ৪ জন নিকট আত্মীয় বর্তমানে হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক পদে কর্মরত রয়েছে। তারা পরিচালক কুদরত -ই খুদাকে জিম্মি করে তার কাছে ১৯ জনের স্থায়ী নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাঠিয়েছে ইতিমধ্যে । এছাড়ার বাকী ৩৫ জনকে নিয়োগ প্রদানের জন্য ১ থেকে দেড় কোটি টাকা ঘুষ বানিজ্য করে নিয়োগের পায়তারা চালাচ্ছে চক্রটি।

এ বিষয়ে খুলনার ঠিকারদারী প্রতিষ্ঠান টি ফোর এসের পরিচালক মো. আব্দুর রশিদের সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী মোস্তাজুল ইসলাম বলেন,ঠিকাদার লোক নিবে এখানে আমাদের কিছু করার নেই ।যারা বলছে তারা ভুল তথ্য দিচ্ছে ।

ইপি আই ইনচার্জ (মেডিকেল টেকনলজজিষ্ট ) ফারুক হোসেন বলেন, আমার কোন আত্মীয় স্বজন মেডিকেলে চাকুরী করেনা । আমরা ১৭৫ জনের বায়োডাটা পাঠিয়েছি ।তবে মেডিকেল কলেজ থেকে খুব কমই লোকই সুযোগ পাচ্ছে ।যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছে তারা মিথ্যা বানোয়াট কথা বার্তা
বলছে বলে তিনি দাবী করেন।

ড্রাইভার বসির উদ্দীন বলেন, আমি হজ্বে ছিলাম গতকাল সেখান থেকে ফিরছি । এখনও আমার ছুটি চলে তবু আজ আমি আসলাম । সিন্ডিকেটের বিষয় আমার জানা নেই ।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চেয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরত ই খুদার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি মুঠো ফোনটি রিসিভ করেন নি । এমনকি হোয়াটস আপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে তার সাড়া মেলেনি ।

 

 

 

 

 

 

 

About dainiksatkhira24

Check Also

সাতক্ষীরা শহর কাঁচা ও পাকা-মাল ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

Spread the love                          …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com