
ফারুক সাগর,: ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার লোকনাথ নাসিং হোম এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার নামে একটি বেসরকারী হাসপাতালে।মৃত প্রসূতির নাম পারুল খাতুন (৩২)। সে আশাশুনি উপজেলার জামালনগর গ্রামের আবু হানিফের স্ত্রী। রোববার (৭জুন) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে তোপের মুখে পালিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নিহতের ছোট ভাবি মিনা খাতুন জানায়, শনিবার (৬জুন) সকালে তার ননদের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে লোকনাথ নাসিং হোমে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুরে সিজারের মাধ্যমে সেখানে একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।
সন্ধার পরে তার ননদের অবস্তা খারাপ হতে থাকে। ওই সময় কর্তৃপক্ষ তার অবস্তা বেগতিক দেখে তাকে অন্য ক্লিনিকে হস্তান্তরের চেষ্টা করলে সেখানে মারা যায় ননদ পারুল। চিকিৎসকের ভুলে এই মৃত্য হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
পারুলের বাবা আজিত খাঁ জানায়,মেয়ের তিনবার সিজারের ঝুঁকি থাকার কারণে তিনি আগেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করেন। কিন্তু ক্লিনিকের মালিক পুলক পাল তাকে অভিজ্ঞ সার্জন আছে বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু ভুল চিকিৎসার কারণে অতিরক্ত রক্ত ক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এই হত্যার কান্ডের বিচার দাবী করে তিনি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পারুলের বড় মেয়ে সাদিয়া (১৪) জানায়, শনিবার সকালে মাকে এখানে ভর্তি করেন। আজ বোরবার দুপুর ২টার দিকে রমিছ উদ্দিন নামে এক চিকিৎসক সিজার করেন। সন্ধ্যার পর তার মা মারা যায়। মাকে ওই ডাক্তার মেরে ফেলেছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
স্থানীয়রা জানায়,লোকনাথ নাসিং হোম এখন মৃত্যু কূপে পরিনত হয়েছে। প্রতিবছর এখানে অপচিকিৎসার শিকার হয়ে কোন না কোন প্রসূত মা মারা যায়। এ পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাঝে মাঝে ক্লিনিকে ঝটিকা অভিযানে ক্লিনিক বন্ধ হলেও অদৃশ্য কারনে তা আবার খুলে যায়।
এবিষয়ে ক্লিনিকের মালিক পুলক পালের বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোনে অনেকবার চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা.আব্দুস সালাম জানায়, বর্তমানে আমি ছুটিতে আছি। এবিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডা: ফরহাদ জামিলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
