Breaking News

বাঁশের ভাসমান সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে বেত্রবতী নদী পারাপার, আতঙ্কে দুই গ্রামের মানুষ

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি:
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশ ও প্লাস্টিক ড্রামের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে দুই গ্রামের মানুষকে। এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়ে যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিশু, নারী ও বয়স্করা। আতঙ্ক আর দোল খাওয়া সাঁকোর ওপর দিয়েই চলছে তাদের নিত্যদিনের যাত্রা।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কোঠাবাড়ি ও রায়টা গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বর্তমানে বেত্রবতী নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁশের ভাসমান সাঁকো। দীর্ঘদিন ধরে সাঁকোটি টেকসই করার দাবি থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেত্রবতী নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত কোঠাবাড়ি, শুভঙ্করকাটি ও হেলাতলা গ্রামের সঙ্গে অপর পাড়ের রায়টা ও আলাইপুর গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এই সাঁকো। স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশ ও প্রায় ৬০টি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর নির্মিত প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ এই সাঁকোটি অত্যন্ত সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ।

সাঁকোটির ওপর দিয়ে চলাচলের সময় এটি দুলতে থাকে, ফলে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। একটি সাইকেল নিয়ে পার হওয়াও এখানে কঠিন। স্থানীয়রা জানান, গত বছরের অক্টোবরে পূর্বের বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেলে দীর্ঘদিন ড্রাম দিয়ে ভেলা বানিয়ে নদী পারাপার করতে হয়েছে। পরে এলাকাবাসীর উদ্যোগ ও হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের সহায়তায় নতুন করে এই ভাসমান সাঁকোটি স্থাপন করা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তাঁর ভাই ইমাম হোসেন আর্থিক সহায়তা করায় সাঁকোটি নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। এর ফলে অন্তত দুই পাড়ের মানুষ হেঁটে নদী পারাপার করতে পারছেন এবং শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে।

রায়টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুবায়ের আলম, অসিউর রহমান, খাদিজা খাতুন ও মরিয়ম জানায়, তারা প্রতিদিন দল বেঁধে এই সাঁকো দিয়েই স্কুলে যাতায়াত করে। নদীর মাঝ বরাবর সাঁকো দুললে তারা ভয়ে আঁকড়ে ধরে থাকে।

কোঠাবাড়ি গ্রামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে হেলাতলা কিংবা রায়টা বাজারে যেতে হয়। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার রায়টা বাজারের সাপ্তাহিক হাটেও এই সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হয় গ্রামবাসীকে।

কলারোয়া উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, বেত্রবতী নদীর ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে বেত্রবতীর দুই তীরের মানুষের জীবনযাত্রায় আসবে বড় পরিবর্তন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তাদের মতে, দূর থেকে মনোরম মনে হলেও ড্রাম ও বাঁশের ভাসমান সাঁকো কোনোভাবেই স্থায়ী ও নিরাপদ সমাধান নয়।

About dainiksatkhira24

Check Also

সাতক্ষীরা সীমান্তে ১৮ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

Spread the loveপ্রেস বিজ্ঞপ্তি:সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে পৃথক অভিযানে প্রায় ১৮ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com