
নিউজ ডেস্ক:
ইভারস আইজাবস বলেন, “কানাডা, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ডের দুইশ পর্যবেক্ষক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজ করবেন। ৪৬ পর্যবেক্ষক আজ ঢাকায় আসবেন। তারা বিভাগীয় শহরগুলোতে কাজ শুরু করবেন।”
ইইউর প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক আরও বলেন, “সব ইইউ পর্যবেক্ষক নিরপেক্ষ মতামতের জন্য দায়বদ্ধ। আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইইউ নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নিয়ে আমি সংবাদ সম্মেলন করবো। আর দুমাস পর পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ করা হবে।”
তিনি জানান, ইইউ পর্যবেক্ষক দল আলাদাভাবে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনকেন্দ্রিক আলোচনা মনিটর করবে।
আইজাবস বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য জনগণের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। রাজনৈতিক দলগুলো সাক্ষাতে জানিয়েছে, তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন চাচ্ছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইইউর সাক্ষাৎ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে জানিয়ে আইজাবস বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেখতে ইইউ বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। ইইউ মনে করে, বাংলাদেশের নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করার সক্ষমতা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মিথ্যা অপপ্রচার চিহ্নিত করতে ইইউর নিজস্ব ফ্যাক্ট চেকিং দল রয়েছে।
গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয় জানিয়ে আইজাবস বলেন, “নির্বাচনের আগে এবং পরে সহিংসতার বিষয়টি মাথায় রাখছে ইইউ। ৬৪ জেলায় সংখ্যালঘু, নারীসহ সব জনগোষ্ঠীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিস্থিতি দেখতে ইইউ পর্যবেক্ষকরা যাবেন।”
এয়ারবাস কেনা ইস্যু যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত ইইউ পর্যবেক্ষক দল মন্তব্য করবে না।
তিনি বলেন, “যে নির্বাচনে বাংলাদেশ সর্বস্তরের ও সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষ ও ধর্মীয় লোকের অংশগ্রহণ করবে, তাকে অংশগ্রহণমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন মনে করছে ইইউ। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে নারী, সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সামাজিক সব গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ। ইইউ মিশন দেখবে কত শতাংশ ভোটার নির্বাচনে অংশ নিল।”
বিগত ১৭ বছরে বাংলাদেশ যেভাবে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করেছে, তেমন নির্বাচন আশা করছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ইইউর প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল জানায়, সংখ্যালঘু ও নারীদের অংশগ্রহণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নয় ইইউ নির্বাচনী মিশন, তবে জনগণের স্বার্থে এবং সবার অংশগ্রহণে যে নির্বাচন হবে, তাতেই গুরুত্বারোপ করা হয়।
আগামী সোমবার প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন বলেও জানান আইজাবস।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
