
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অবসান ঘটাতে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন।শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বাড়ানোসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা উদ্যোগের ফলে বিদ্যালয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিলেও তার এই উদ্যোগে অসন্তোষ প্রকাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্বার্থান্বেষী কিছু শিক্ষক। অভিযোগ উঠেছে, এই শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য ও অতীতের অনিয়ম ঢাকতে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক মো.আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই প্রধান শিক্ষক মো.আলাউদ্দিন স্কুলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেন।যার ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ে,শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান শুরু করেন। তিনি বলেন,”স্কুলে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমি নিরলস ভাবে কাছ করছি।তার জন্য একটি কুচক্রী মহলের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে বাঁধা পাচ্ছি।তারা সেটাই না পেরে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচারও চালাচ্ছে।এতে আমি একদম বিচলিত নয়।আমি আরও বেশি অনুপ্রাণিত হচ্ছি।দীর্ঘদিন স্কুলের ভঙ্গুর ব্যবস্থাপনাকে গতিশীল কার্যক্রমে পরিচালনা করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি।তার জন্য মিথ্যা অপবাদ দিলেও আমার কোন আপত্তি থাকবে না।তবে আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি যদি অপরাধীই হতাম তবে স্কুলে অডিট চাইতে পারতাম না।আমি চাই তদন্ত হোক এবং আমি সমস্ত অভিযোগের জবাব দিতে প্রস্তুত।”
অতীতের অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা:সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধান শিক্ষক এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রায় ১২ বছর দায়িত্বে থাকার সময় একসাথে জেলা শিক্ষা অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বও পালন করেন। ওই সময় নিয়োগ বাণিজ্য ও তহবিল আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার ছত্রছায়ায় একদল শিক্ষক কোচিং ব্যবসা চালাতেন এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়েছিল। আর সেই ভঙ্গুর ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলায় ফিরানোয় কাল হলো আমার।শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছি
শৃঙ্খলা ফেরানোর পথে বাধা:বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন কোচিং নিরুৎসাহিত করায় কিছু শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্য ও ব্যাচ পড়ানো বন্ধের পথে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি বিভিন্ন দপ্তরে দায়ের করছেন বলে জানা গেছে। এমনকি সম্প্রতি একটি গোপন বৈঠকে তাকে বদলির ষড়যন্ত্রেরও অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সমর্থন:বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, স্কুলে এখন পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করছে, যা আগে ছিল না। তারা মনে করছেন, ষড়যন্ত্রকারীদের দমন না করা হলে বিদ্যালয়ের এই ইতিবাচক পরিবর্তন আবারও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা চাই আমাদের সন্তানরা স্কুলে পড়াশোনা করুক, কোচিং সেন্টারে নয়। প্রধান শিক্ষক সঠিক কাজ করছেন। তাকে হেয় করার যেকোনো প্রচেষ্টা দুঃখজনক।”
সচেতন মহল মনে করছেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বকালে যেমন তদন্ত হওয়া উচিত, তেমনি আগের প্রায় ১২ বছরের কার্যকালও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা বলছেন, “দ্রুত তদন্ত করে দোষী শিক্ষক ও অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আবারও বিঘ্নিত হতে পারে।”
প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরি:সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলেও এখনও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব নয়।
সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন জানান, তিনি শুধু তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চান। শিক্ষার মানোন্নয়নে তার এই প্রচেষ্টায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমর্থনই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
