Breaking News

সংসদে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত ১৫১ জন জনপ্রতিনিধি, সবচেয়ে বেশি বিএনপির

Spread the love

নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদে বসতে যাচ্ছেন শীর্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ ১৫১ জন নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে বিএনপি ২০৯টি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসন জয় পেয়েছে। একটি করে আসন পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)।

দেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর আগে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। ত্রয়োদশ নির্বাচনে বগুড়া-৬, ঢাকা-১৭ আসেন প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন তিনি। অন্যদিকে জামায়াতের আমির ২০০১ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে জয় পাননি। এবার তিনি ঢাকা-১৫ আসনে প্রার্থী হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

একইভাবে প্রথমবারের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় পেয়েছেন জুলাই আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম। ঢাকা-১১ আসন থেকে এমপি হয়ে সংসদে পা রাখছেন তিনি। ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে তিনিও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনপি
প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপির ৭০ জন। তারা হলেন- খন্দকার আবু আশফাক (ঢাকা-১), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩), ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬), হামিদুর রহমান হামিদ (ঢাকা-৭), হাবিবুর রশিদ হাবিব (ঢাকা-৯), রবিউল ইসলাম রবি (ঢাকা-১০), ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), তারেক রহমান (ঢাকা-১৭), এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন (ঢাকা-১৮)।

গাইবান্ধা-৪ আসনে মোহাম্মদ ফারুক আলম সরকার, জয়পুরহাট-২ আসনে আব্দুল বারী, নওগাঁ-১ আসনে মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, দিনাজপুর-৬ আসনে এজেডএম জাহিদ হোসেন, নওগাঁ-৩ আসনে ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনে একরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৬ আসনে শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, রাজশাহী-৫ আসনে নজরুল ইসলাম, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে আইনুল হক, পাবনা-৫ আসনে মোহাম্মদ শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

ঝিনাইদহ-১ আসনে মো. আসাদুজ্জামান ও খুলনা-৩ আসনের রকিবুল ইসলাম, ভোলা-৪ আসনের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, বরিশাল-৪ আসনের মোহাম্মদ রাজিব আহসান, পিরোজপুর-২ আসনের আহমেদ সোহেল মনজুর ও পিরোজপুর-৩ আসনের মো. রুহুল আমিন দুলাল, টাঙ্গাইল-৪ আসনে মোহাম্মদ লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৫ আসনে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৬ আসনে রবিউল আউয়াল লাভলু ও টাঙ্গাইল-৮ আসনে আহমেদ আযম খান।

ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুতফুল্লাহেল মাজেদ, ময়মনসিংহ-৯ এর ইয়াসের খান চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-২ এ মো. জালাল উদ্দিন, মুন্সীগঞ্জ-১ এ শেখ মো. আবদুল্লাহ, মুন্সীগঞ্জ-২ এ আব্দুস সালাম আজাদ, গাজীপুর-১ আসনে মো. মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনে এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনে এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মো. আজহারুল ইসলাম মান্নানও এর আগে সংসদে বসেননি।

ধানের শীষের অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ফরিদপুর-৩ আসনে ইউসূফ আহমেদ, ফরিদপুর-৪ এ শহীদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম, গোপালগঞ্জ-১ আসনে মো. সেলিমুজ্জামান মোল্ল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনে কেএম বাবর আলী, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এসএম জিলানী, শরীয়তপুর-১ আসনে সাইদ আহমেদ আসলাম ও শরীয়তপুর-৩ আসনের মিয়া নুরদ্দিন আহাম্মেদ অপুও প্রথমবার যাবেন সংসদে।

সিলেট বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মোহাম্মদ কয়সর আহমেদ, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর, সিলেট-৩ আসনে মোহাম্মদ আবদুল মালিক, সিলেট-৬ আসনে এমরান আহমেদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-২ আসনে সওকত হোসেন সকু, হবিগঞ্জ-২ আসনে সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-১ রেজা কিবরিয়াও প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে এস এ হান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে মো. আব্দুল মান্নান, পঞ্চগড়-১ আসনে মুহাম্মদ নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ আসনে ফরহাদ হোসেন আজাদ, কুমিল্লা-৫ আসনে মো. জসিম উদ্দিন, ফেনী-১ আসনে রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-৩ আসনে আব্দুল আওয়াল মিন্টু, নোয়াখালী-৫ আসনে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-৫ আসনে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৭ আসনে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনে এরশাদ উল্লাহ, চট্রগ্রাম-১০ সাঈদ আল নোমান ও যশোর-৩ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রথমবার নির্বাচিত হলেন।

জামায়াতে ইসলামী
জামায়াতের ৬৮ জনের মধ্যে ৬৫ জনই প্রথমবারের মতো এমপি হলেন। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০০৮ সালে ৩ জন, ২০০১ সালের নির্বাচনে ১৭ জন এমপি ছিলো জামায়াতের।

জামায়াতের একজন নেতা বলেছেন, তিনজন ছাড়া তাকের বাকি সবাই প্রথমবারের এমপি হয়েছেন। তিনজনের মধ্যে রয়েছেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো তাহের (কুমিল্লা-১১), শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫) ও রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪)।

তারা হলেন- ঢাকা-১৫ আসনে আমির শফিকুর রহমান, ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-১২ আসনের সাইফুল আলম মিলন, ঢাকা ১৪ আসনের আহমদ বিন কাশেম আরমান ও ঢাকা-১৬ আসনের মো. আব্দুল বাতেন।

কুড়িগ্রাম-১ আসনে মো. আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে মো. মাহবুবুল আলম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোমোস্তাফিজুর রহমান, কুষ্টিয়া-২ আসনে মো. আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনে মো. আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনে মো. আফজাল হোসেন, খুলনা-২ আসনে শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, (খুলনা-৬ আসনে মো. আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধা-১ আসনে মো. মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ আসনে মো. আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনে আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৫ আসনে মো. আব্দুল ওয়ারেছ, গাজীপুর-৪ আসনে সালাহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে মো. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মু. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. নূরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মো. মাসুদ পারভেজ, চুয়াডাঙ্গা-২ আসেন মো. রুহুল আমিন, জয়পুরহাট-১ আসনে মো. ফজলুর রহমান সাঈদ, ঝিনাইদহ-২ আসনে আলী আজম মো. আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনে মো. মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনে মো. আবু তালিব, নওগাঁ-২ আসনে মো. এনামুল হক,নীলফামারী-১ আসনে মো. আব্দুস সাত্তার,নীলফামারী-২ আসনে আলফারুক আব্দুল লতীফ,নীলফামারী-৩ আসনে ওবায়দুল্লাহ সালাফী,নীলফামারী-৪ আসনে আব্দুল মুনতাকিম ও পটুয়াখালী-২ আসনে মো. শফিকুল ইসলাম।

দাঁড়িপাল্লা মার্কায় জয় পাওয়া মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), মুহাম্মাদ আলী আছগার (পাবনা-৩), মো. আবু তালেব মন্ডল (পাবনা-৪), মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১), মো. মশিউর রহমান খান (বাগেরহাট-১), শেখ মনজুরুল হক রাহাদ (বাগেরহাট-২), মো. আব্দুল আলীম (বাগেরহাট-৪), মো. কামরুল হাসান (ময়মনসিংহ-৬), মো. তাজউদ্দীন খান (মেহেরপুর-১), মো. নাজমুল হুদা (মেহেরপুর-২), ইলিয়াস মোল্লা (ফরিদপুর-১), আতাউর রহমান (নড়াইল-২), মাছুম মোস্তফা (নেত্রকোণা-৫), মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান (যশোর-১), মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ (যশোর-২), মো. গোলাম রছুল (যশোর-৪), গাজী এনামুল হক (যশোর-৫), মোক্তার আলী (যশোর-৬), রায়হান সিরাজী (রংপুর-১), এটিএম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২), মাহবুবুর রহমান বেলাল (রংপুর-৩), গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫), নুরুল আমীন (রংপুর-৬), মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১), আব্দুল বারী সরদার (রাজশাহী-৪), রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (শেরপুর-১), ইজ্জত উল্লাহ (সাতক্ষীরা-১), মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২). মুহা. রবিউল বাশার (সাতক্ষীরা-৩) এবং জিএম নজরুল ইসলামও (সাতক্ষীরা-৪)।

এনসিপির ছয় প্রার্থী জয়ী হয়েছেন শাপলা প্রতীক নিয়ে, যাদের কেউই এর আগে সংসদে যাননি। এ তালিকায় নাহিদের পাশাপাশি রয়েছেন আকতার হোসেন (রংপুর-৪), হাসনাত আব্দুল্লাহ (কুমিল্লা-৪), আবদুল হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬), আব্দুল্লাহ আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ-৪) ও আতিকুল রহমান মোজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২)।

জামায়াতের সঙ্গে ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে সাইদ উদ্দীন আহমাদ হানজালা (মাদারীপুর-১) ও মুফতি মুহাম্মদুল্লাহও (ময়মনসিংহ-২) প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জামায়াত জোটের হয়ে খেলাফত মজলিস থেকে জয়ী হওয়া মুফতি আবুল হাসানও (সিলেট-৫) প্রথমবার সংসদ সদস্য হলেন। এছাড়া পুরো দলের হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মো. অলি উল্লাহ (বরগুনা-১)।

এদের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পাওয়া সাতজনের মধ্যে চারজন প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
তারা হলেন- কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মজিবুর রহমান; চাঁদপুর-৪ এ আব্দুল হান্নান; কুমিল্লা-৭ এ আতিকুল আলম শাওন ও ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর।

About dainiksatkhira24

Check Also

মামুনুল-পাটওয়ারীরা আছেন রাজপথে: নাহিদ ইসলাম

Spread the loveডেস্ক রিপোর্ট: দেশে জুলাই সনদ আর গণভোট বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সংসদ আর রাজপথ একাকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com