
নিজস্ব প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী এ. করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়াতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সুন্দরবন কোয়ালিশনের ‘লোকালিটি লিড ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন ইন দ্য বাংলাদেশ কোস্টাল রিজিয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করে সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস)। শেয়ারট্রাস্টের অর্থায়নে এবং আভাসের (AVAS) সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তায় এ আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী নজরুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার (সামস) নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশেক বিল্লাহ, আমিনুর রহমান ও মো. নাজমুল হুদা, সহকারী শিক্ষিকা প্রতিভা রানী, সামসের ফাইন্যান্স ও অ্যাডমিন অফিসার তাপস কুমার সরদার, প্রোগ্রাম অফিসার অনুপ কুমার মুন্ডা, সামাজিক কর্মী মোমিনুর রহমান, হৈমন্তী কুমার ও মনিকা সরকারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, আগামী দিনের উপকূল রক্ষা করতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং প্লাস্টিক বর্জন করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ নারী ও শিশু নির্যাতনসহ নানা সামাজিক সমস্যার অন্যতম কারণ। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আঠারোর নিচে বিয়ে নয়, আঠারোর নিচে বই-খাতা হাতে নিয়ে স্কুলে যেতে হবে।’ নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা করতে হবে, যার প্রতিটি উদ্যোগ হবে পরিবেশবান্ধব। এভাবেই একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
আয়োজকেরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে শ্যামনগরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকায় তৈরি হওয়া ঝুঁকি, পরিবেশগত সংকট, সুন্দরবনের অস্তিত্বের হুমকি এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের জন্য ‘দুর্যোগ-পরবর্তী দৃশ্য’, ‘সুন্দরবনের চিত্র’ এবং ‘ভবিষ্যতে কেমন পৃথিবী দেখতে চাই’ শীর্ষক তিনটি বিষয় নির্ধারণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা পছন্দমতো একটি বিষয় বেছে নিয়ে নিজেদের সৃজনশীলতা ও কল্পনার মাধ্যমে চিত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশা তুলে ধরে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
