Breaking News

বারবার ঘড়ির অ্যালার্মের স্নুজ চাপা, ক্ষতি ও উপকার

Spread the love

স্বাস্থ্য ডেস্ক:
আরাসের ঘুমের সময় সকালে ঘড়ির অ্যালার্ম বাজতে শুরু করলে চট করে উঠে পড়া বেশ কঠিন। আর তাই স্নুজ বাটন চেপে আরেকটু ঘুমিয়ে নিতে পারলে বেশ ভালোই লাগে!

এদিকে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ৬ মাস ধরে বিশ্বের ২১ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্মার্টফোনভিত্তিক ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রেকর্ড করা রাতগুলোর অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে মানুষ গড়ে ২ দশমিক ৪ বার স্নুজ চাপার পর বিছানা ছাড়েন। মানে এটি কোনো বিরল অভ্যাস নয়। আমরা প্রায় অনেকেই প্রতি সকালে এটি করি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এতে কি আমাদের কোনো ক্ষতি হচ্ছে? উত্তরটা এককথায় দেওয়া যাচ্ছে না। এর উত্তর নির্ভর করছে স্নুজ বাটন কেন চাপা হচ্ছে, তার ওপর।

ঘুমের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হলো র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট বা আরইএম (রেম) ঘুম। এই পর্যায় স্মৃতি গঠন, আবেগ প্রক্রিয়াকরণ ও সৃজনশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাতের শেষ ভাগে আরইএম ঘুম বেশি হয়। যদি কেউ ইচ্ছা করে অ্যালার্ম আগেভাগে সেট করে শুধু স্নুজ করার জন্য, তাহলে সম্ভাবনা থাকে যে সে নিজের মূল্যবান আরইএম পর্যায় ভেঙে দিচ্ছে। পরে আবার ঘুমালেও তা সাধারণত হালকা, আধো আরইএম ঘুম হয়। তখন স্মৃতি গঠনের সুযোগ কম পাওয়া যায়।

ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান মেডিকেল স্কুলের স্নায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্যাথি গোল্ডেস্টেইন মনে করেন, সকালে কয়েক মিনিট আরইএম কমে গেলে পরদিনের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতায় বড় প্রভাব পড়ে, এমন শক্ত প্রমাণ এখনো নেই। মানে অল্প কিছু সময় স্নুজ করলে বড় ক্ষতি হবে, এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

অন্যদিকে ব্রিগ্যাম অ্যান্ড ওমেন্স হসপিটালের ঘুমবিজ্ঞানী রেবেকা রবিনস সতর্ক করেছেন, যদি স্নুজের কারণে ঘুম ও জেগে ওঠার সময় প্রতিদিন বদলে যায়, তাহলে শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈব ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম বিঘ্নিত হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে সময়মতো ঘুমানো ও জেগে ওঠা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অনেকে স্নুজকে ‘ভরসা’ করে ঘুমায়। কারণ, তারা পর্যাপ্ত বা ভালো মানের ঘুম পান না। অনিদ্রা, স্লিপ অ্যাপনিয়া, রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সকালে অতিরিক্ত ঝিমুনি হতে পারে। তখন স্নুজ করা কোনো কাজে লাগে না।

তবে স্নুজের কিছু সম্ভাব্য উপকারও আছে। ২০২৩ সালের একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মানুষ নিয়মিত স্নুজ করেন, তারা ল্যাব পরিবেশে স্নুজ করার পর জাগার সঙ্গে সঙ্গে কিছু জ্ঞানীয় পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফল করেছেন। ধারণা করা হয়, শেষ কয়েক মিনিট হালকা ঘুমে কাটানোর ফলে হঠাৎ গভীর ঘুম থেকে টেনে তোলার মতো ধাক্কা লাগে না। সকালের ঝিমুনিও কিছুটা কমে।

তাহলে কী করা উচিত? যদি কেউ নিয়মিত সময়মতো ঘুমায়, সকালে মোটামুটি সতেজ থাকে এবং বিকেলে তীব্র ঝিমুনি না আসে, তাহলে এক-দুবার স্নুজ করলে আসলে বড় সমস্যা হবে না। কিন্তু যদি কেউ অ্যালার্ম ছাড়া উঠতেই না পারে বা স্নুজ না করলে দিন শুরুই করা যায় না, তাহলে সেটি ঘুমের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।

স্নুজ করা সমস্যা নয়, সমস্যা হলো এর পেছনের কারণ। যদি আপনার শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পায়, তাহলে স্নুজ কেবল কিছু সময় স্বস্তি দেবে। কিন্তু যদি ঘুমের রুটিন ঠিক থাকে, তবে কয়েক মিনিটের স্নুজ হয়তো সকালের ধাক্কাটা একটু কমিয়ে দিতে পারে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

About dainiksatkhira24

Check Also

ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে—-খালেদা জিয়াকে

Spread the loveডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সর্বোচ্চ পেশাদার দক্ষতা, সতর্কতা ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com