
শাহরিয়ার কবির: দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার হওয়ার দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বারবার নির্বাচিত সোনাদানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম. এনামুল হকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর। আর এই ঘোষণার পরপরই সোমবার সন্ধ্যায় পাইকগাছায় অনুষ্ঠিত হয় স্বতঃস্ফূর্ত এক আনন্দ মিছিল।
কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই পাইকগাছা উপজেলা ও পৌর এলাকার নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। দিনভর আলোচনা-সমালোচনার পর সন্ধ্যা নামতেই রূপ নেয় আনন্দ মিছিলে।
সন্ধ্যা ৫টার দিকে পাইকগাছার উপজেলার কাছিঘাটা সীমান্ত এলাকা থেকে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও পিকআপে করে এনামুল হককে আনতে ভিড় জমায় বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। স্লোগানে স্লোগানে মুখর সেই গ্রহণ শোভাযাত্রা পৌর এলাকায় প্রবেশের পর পরিবেশ আরও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।পাইকগাছা পৌর বাজার মোড়ে এনামুল হক পৌঁছালে তাকে ঘিরে শুরু হয় মূল আনন্দ মিছিল। গণতন্ত্র মুক্তি পাক, এনামুল হক এগিয়ে চল, বহিষ্কার নয়—অধিকার—এমন নানা স্লোগানে পুরো বাজার এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।মিছিলটি পৌর বাজার থেকে শুরু হয়ে, পৌর সদরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়।আনন্দ মিছিলে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন—
অবশেষে ন্যায়বিচার হয়েছে। আমাদের প্রিয় নেতার সম্মান ফিরে পাওয়ায় পাইকগাছা বিএনপি আরও ঐক্যবদ্ধ হলো।আরেকজন বলেন, এনামুল হক মাঠের নেতা। তাঁকে ছাড়া পাইকগাছার রাজনীতি অকেজো ছিল।আনন্দ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এনামুল হক বলেন—দল আমাকে আবারও বিশ্বাসের দায়িত্ব দিয়েছে। পাইকগাছায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে জীবন দিয়ে কাজ করব। যারা আমাকে ভালোবাসা দিয়ে বুকে টেনে নিয়েছেন—তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর এনামুল হকের মাঠে সক্রিয় প্রত্যাবর্তন পাইকগাছা বিএনপিতে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনবে এবং আগামীর আন্দোলন-সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
