Breaking News

পাইকগাছায় নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই সড়কে ফাটল

Spread the love

পাইকগাছা প্রতিনিধি: পাইকগাছা পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সড়কের গাইডওয়ালের ভেতরে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট না করেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে ফাটল দেখা দেওয়ার পর মূল ত্রুটির কারণ নিরসন না করে উপরিভাগে সামান্য সংস্কার করে তা ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এ অবস্থায় কাজের মান, তদারকি ও বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, পাইকগাছা পৌরসভার পুরনো খাদ্য গুদাম এলাকা থেকে সড়কটি শুরু হয়ে আকবর মাস্টারের বাড়ির সামনে দিয়ে মসজিদ হয়ে শহীদ গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছন দিয়ে মূল সড়কে গিয়ে মিশেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সংযোগ সড়কের পুরনো খাদ্য গুদামের সামনে থেকে আকবর মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত অংশের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশের গাইডওয়ালের ভেতরে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট করা হয়নি—এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাইডওয়ালের আশপাশে পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় সড়কের ঢালাই অংশে চাপ সৃষ্টি হয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

ফাটল দেখা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা তা সংস্কার করেছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল ত্রুটি নিরসনের পরিবর্তে ফাটলের ওপর সামান্য মেরামতসামগ্রী দিয়ে কোনোমতে লেপে দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এতে ফাটল সাময়িকভাবে চোখের আড়াল হলেও সড়কের ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, গাইডওয়ালের ভেতরে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট না করেই যদি সড়কের ওপরের অংশে শুধু ফাটল ঢেকে দেওয়া হয়, তাহলে কয়েক মাস পর আবার একই স্থানে ফাটল বা দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে এর দায় নেবে কে?

এদিকে, নির্মাণকাজের বিল উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকা এবং কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি অবশ্যই যাচাই করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ঠিকাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি আমিনুর ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে গাইডওয়ালের ভেতরে মাটি ভরাট করে দেব।” সড়কের ফাটলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা এটা ঠিক করে দেব।”

বিল পরিশোধের বিষয়ে পাইকগাছা পৌরসভার প্রকৌশলী এমএম নুর আহম্মদ

সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমরা কাজ দেখে তারপর বিল পরিশোধ করব। কোনো জায়গায় ত্রুটি থাকলে বিল দেওয়া হবে না।”

সংশ্লিষ্টদের এমন বক্তব্যের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে—নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই কেন সড়কে ফাটল দেখা দিল এবং গাইডওয়ালের ভেতরে প্রয়োজনীয় মাটি কেন আগে ভরাট করা হয়নি? একই সঙ্গে ফাটলের ওপর সামান্য সংস্কার করার পরিবর্তে প্রকৃত কারিগরি ত্রুটি চিহ্নিত করে তা স্থায়ীভাবে সমাধান করা হয়েছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের দাবি রাখে।

সচেতন মহলের মতে, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ক্ষেত্রে শুধু দৃশ্যমান ফাটল মেরামত করাই যথেষ্ট নয়। গাইডওয়ালের নির্মাণপদ্ধতি, মাটি ভরাটের পরিমাণ, ঢালাইয়ের পুরুত্ব, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের পরিমাণ এবং অনুমোদিত প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে কারিগরি পরিদর্শন প্রয়োজন।

পাশাপাশি কার্যাদেশ, প্রাক্কলন, মেজারমেন্ট বুক (এমবি), কাজের পরিমাণ এবং বিলসংক্রান্ত নথি যাচাই করে দেখা দরকার—বাস্তবে যতটুকু কাজ হয়েছে, তার সঙ্গে বিলের পরিমাণের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না।

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল, গাইডওয়ালে মাটি ভরাট না করার অভিযোগ এবং পরে ফাটলের ওপর উপরিভাগে সংস্কার—সব মিলিয়ে সড়কটির নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ও কারিগরি যাচাই এখন প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা সংস্কারের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সড়কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা হোক এবং কাজের মান সন্তোষজনক প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিল পরিশোধ না করা হোক।

About dainiksatkhira24

Check Also

তিন দশকের অযত্নে জরাজীর্ণ গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবন

Spread the loveশাহরিয়ার কবির:খুলনার পাইকগাছা পৌর সদরের গদাইপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com