
ফারুক,সাগর: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও বাংলো থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত ১০০ মিটার ওয়াকওয়ের টাইলস করণ প্রকল্পে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
নিম্নমানের কাজের কারণে নির্মাণ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে টাইলস উঠে যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাংলো থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত ১০০ মিটার ওয়াকওয়ের ঢালাইসহ টাইলস বসানোর কাজটি এডিপির আওতায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করছে তালা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার এমডি আশরাফ আলী কার্যাদেশ পেলেও জাহাঙ্গীর হোসেনের মাধ্যমে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে।
তালা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী স্বজল কুমার শীল প্রকল্পটির তদারকি করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়,চলতি মাসের ১৫ তারিখে কাজ শেষ হলেও ইতোমধ্যে রাস্তার টাইলসে হাত দিয়েই উঠিয়ে ফেলা যাচ্ছে। কাজের মান নিম্নমানের হওয়ায় সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিলের অনুমোদন দেননি বলে জানা গেছে। বর্তমানে মিস্ত্রি শাহিন গাজি সংস্কারের জন্য টাইলস তুলে পুনরায় বসানোর কাজ করছেন।
মিস্ত্রি শাহিন গাজি বলেন,”ঢালাইয়ের ওপর বালুর সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সিমেন্ট না দেওয়ায় টাইলস ঠিকভাবে বসেনি। ফলে সহজেই উঠে যাচ্ছে। এ কারণে সংস্কারের কাজ চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন,জয়দেবসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন,”ঢালাইয়ের সময় পর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি এবং টাইলস বসানোর সময় আরও কম দেওয়া হয়েছে। ফলে পা দিয়ে চাপ দিলেই টাইলস উঠে যাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় এধরণের দূর্নীতি হলে অন্যান্য কাজে পুকুর চুরি হয় বলে অভিমত দেন তারা।
এ বিষয়ে ঠিকাদার এমডি আশরাফ আলী বলেন, “কাজটি তার নামে হলেও জাহাঙ্গীর হোসেন বাস্তবায়ন করছেন। কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা তিনি অবগত নন।”
তালা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী স্বজল কুমার শীল বলেন,”কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। টাইলস বসানোর পর সঠিকভাবে পানি না দেওয়ায় তা শক্ত হয়নি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কাজ শুরু হয়েছে।”
তালা উপজেলা প্রকৌশলী রথীন্দ্র নাথ হালদার বলেন,”তিনি বর্তমানে বাইরে রয়েছেন। বিষয়টি তার জানা নেই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনেয়ারা বলেন,”দূর্নীতি হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
