
জহর হাসান সাগর:
তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামে সংঘটিত আলোচিত ও রহস্যময় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ডাকাতির রহস্য উদঘাটনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পেয়েছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ২ দিনের মাথায় অভিযানে নেমে ৩জনকে জিঙ্গাসাবাদের জন্য হেফাজাতে নেয়ার পর জিঙ্গাসাবাদে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া টাকার মধ্যে ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি রাতে পাটকেলঘাটা থানার খলিশখালী পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল গণেশপুর গ্রাম থেকে মোকসেদ আলী মোড়ল (৬০), হাফিজুর রহমান (৪৫) ও আবু সাঈদ মোড়ল (২২) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মোকসেদ আলী মোড়লের গোয়ালঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৩টার দিকে গণেশপুর গ্রামের পোল্ট্রি ও ফিড ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের খামারবাড়িতে একদল ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ব্যবসায়ীর শোকেসে রাখা ১০ লাখ টাকা এবং গোয়ালঘরের মাটিতে পুঁতে রাখা প্রায় ২ কোটি টাকা লুট করে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পরপরই তালা ও পাটকেলঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফুল কবিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তদন্ত জোরদার করেন।
এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ওসি লুৎফুল কবির জানান, “বিপুল পরিমাণ টাকার রহস্যময় ডাকাতির ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন, “ওই টাকা ছিল আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল। বিষয়টি নিয়ে আমি কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিইনি। পুলিশের তদন্তেই সবকিছু পরিষ্কার হবে বলে আশা করছি।”
পুলিশ জানায়, ডাকাতির ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনার নেপথ্য কাহিনি ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা আরো স্পষ্ট করে বলা যাবে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
