
নিজস্ব প্রতিনিধি : একাধিক বিয়ের নায়ক চিহ্নিত জলদস্যু ও হত্যাসহ সাতটি মামলার আসামী স্বামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকাল ৪টায় সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলস্থ অনুসন্ধানী সাংবাদিক ফোরামের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্যামনগর থানার ডুমুরিয়া গ্রামের মৃত রমজান আলীর মেয়ে ফাতেমা খাতুন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিগত ১০ বিগত ১০ বছর পূর্বে মিষ্টি কথায় ফুসলিয়ে আমাকে বিবাহ করে আশাশুনি উপজেলার বসুখালী গ্রামের আহম্মদ ফকিরের পুত্র আমিরুল ফকির। বিবাহের পর ধীরে ধীরে বুঝতে পারি স্বামী আমিরুল ফকির একজন লম্পট, সুন্দরবনের জলদস্যুতার সাথে সম্পৃক্ত। আমার আগেও তারা একাধিক বিবাহ ছিলো। এটি বুঝে ওঠার পূর্বেই তার ঔরশে আমার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। তার সকল অপকর্ম অবগত হওয়ায় আমার কন্যা পেটে থাকতেই আমিরুল আমাকে ফেলে রেখে চলে যায়। দীর্ঘদিন আর আমার সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। আমি উপায়ন্তর হয়ে আমার কন্যাকে নিয়ে স্থানীয় ক্লিনিকে চাকুরিসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলাম। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অতিকষ্টে স্বর্ণের গহনা তৈরি করেছিলাম।’ ‘দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালের শুরুতে আবারো ফিরে আসে আমার কাছে। এসে স্বামী আমিরুল বলে, আমি ভালো হয়ে গেছি। জীবনে অনেক অন্যায় করেছি। এখন থেকে শান্তিপূর্ণভাবেই ঘর সংসার করবো ইত্যাদি। আমি সরল বিশ্বাসে তার কথায় বিশ্বাস করে পুনরায় তার সাথে সংসার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সে আমাকে নিয়ে শ্যামনগরের গ্যারেজ মোড়ে একটি ভাড়া বাড়িতে তোলে এবং সেখানে মাছের ব্যবসা পরিচালনার কথা বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা গ্রহণ করে। এছাড়া আমার নামে সমিতি থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করে। কিন্তু সে কোন ব্যবসায় সম্পৃক্ত না হয়ে ওই টাকা সবই নেশা করে নষ্ট করে। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমাকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। তখন আমি পিতার বাড়িতে চলে যাই।’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাসায় না থাকার সুযোগে গত ২/৪/২০২৫ তারিখে বিকালে আমার স্বর্ণের ৬০ হাজার টাকা মূল্যে চুড়ি, ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন, ৮০ হাজার টাকার তিন জোড়া স্বর্ণের দুল এবং সমিতি থেকে উত্তেলিত নগদ ৫০ হাজার টাকা সহ ৩,০০,০০০ লক্ষাধিক টাকার অন্যান্য মালামাল আমার টিনের বাক্স ভেঙে চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখি আমার রক্তপানি করা কোন গহনা নেই, টাকাও নেই। তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলে ‘আমাকে এ্যাসিড মেরে মুখ ঝলসে দেওয়াসহ নানান হুমকি প্রদর্শন করে । পরে ওই মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করে। তখন আমি তার পিতা আহম্মদ ফকির, শ্বাশুড়ি মাহফুজা, ভাই হযরত ফকির এর সাথে যোগাযোগ করলে তারা উল্টো আমাকে খুন জখমের হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে।’ ফাতেমা খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমার শিশু কন্যাটির বয়স ৫ বছর। এ পর্যন্ত ওই লম্পট পিতা হিসেবে কোন দায়িত্ব পালন করেনি। কোন দিন খেতেও দেয়নি। এখন উল্টো কৌশলে আমার তীল তীল করে কন্যার জন্য তৈরি করা সম্পদ হাতিয়ে পালিয়েছে লম্পট, জলদস্যু আমিরুল। আমি এখন পথের ভিখারী হয়ে গেছি। তার মিষ্টি কথায় ভুলে পুনরায় তার সাথে জড়ানোর কারনে পিতা-ভাই এর পরিবারের সাথেও আমার সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। আমি একা একজন নারী হয়ে শিশু কন্যাকে নিয়ে কোথায় থাকবো, কি খাবো তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি। আমি ওই স্বামী নামের কলঙ্ক জলদস্যু আমিরুলকে গ্রেফতার পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
