Breaking News

সাতক্ষীরায় গেস্ট হাউস দখল থেকে প্রদর্শনী জমি ভোগ শরিফুলের

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি: কর্মকর্তা-কর্মচারী না হয়েও সাতক্ষীরার বিনেরপোতা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয়ে গেস্ট হাউস ব্যবহার, অফিস পরিচালনায় প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে নিজে থেকে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি আশাশুনি উপজেলায়।

প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, শরিফ ব্রির কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। তিনি একজন কৃষক হলেও বছরের পর বছর ধরে ব্রি ক্যাম্পাসের গেস্ট হাউসে বসবাস করে আসছেন। অথচ প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সর্বোচ্চ সাত দিনের বেশি গেস্ট হাউসে থাকতে পারেন না। শরিফ কীভাবে এবং কার অনুমতিতে দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করছেন, এ বিষয়ে কোনো অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্রগুলোর অভিযোগ, গেস্ট হাউসে অবস্থানকে কেন্দ্র করে শরিফ ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তিনি অফিসের প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে নিজে থেকে হস্তক্ষেপ করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হুকুম চালান। কেউ তাঁর কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলে বদলির ভয় দেখানোসহ হুমকির অভিযোগও রয়েছে। অনেকের সঙ্গে তিনি অশালীন ভাষায়, তুই-তুকারি করে কথা বলেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শরিফ প্রায়ই দাবি করেন যে তাঁর ‘উপরের আদেশ’ রয়েছে। এই দাবি দেখিয়ে তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটাসহ বিভিন্ন বিষয়ে এককভাবে প্রভাব খাটান। এতে সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে অফিসের লোগো বা স্টিকার ব্যবহার করেন। পাশাপাশি আশাশুনি ও দেবহাটা এলাকায় ব্রি কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রায় ১০০ একর প্রদর্শনী জমি তিনি এককভাবে ভোগ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব জমি গবেষণা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের উপকারে ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে অন্য কৃষকেরা সেই সুযোগ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, প্রদর্শনী জমির সুফল একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় তারা বঞ্চিত হচ্ছেন, যেটি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শরিফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। তিনি বলেন, ক্লাস এইট (অষ্টম শ্রেণি) থেকে টিআরবি প্রজেক্টের মাধ্যমে আমি ব্রির সঙ্গে যুক্ত। সে কারণে সবার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক আছে। কিন্তু তাই বলে এমন নয় যে আমার কোনো ক্ষমতা আছে বা আমি কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

গেস্ট হাউস ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সব সময় থাকি না, মাঝেমধ্যে যখন আসা হয় তখন থাকি।

মোটরসাইকেলে সরকারি স্টিকার ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে মোটরসাইকেলের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আমার না। গাড়িটি অফিসের স্টাফ হাকিম ভাইয়ের। আমি শুধু তাঁর গাড়ি চালাই। স্টিকার লাগানোর বিষয়টি আমার সিদ্ধান্ত নয়।

সামগ্রিক অভিযোগ প্রসঙ্গে শরিফ বলেন, আপনি যদি মনে করেন, এসব বিষয়ে আমার কোনো সম্পৃক্ততা আছে, তাহলে যিনি আপনাকে এই তথ্যগুলো দিয়েছেন, তাঁকে এবং আমাকে এক জায়গায় বসিয়ে কথা বলতে পারেন। তাহলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। অফিসের স্যারদের সঙ্গে কথা বললেও সবটা জানতে পারবেন।

About dainiksatkhira24

Check Also

তালায় তুবা পাইপ এ্যান্ড ফিটিংস ইন্ডাস্ট্রিজ ‎বেকার সমস্যা সমাধানে অভূতপূর্ব অবদান

Spread the loveফারুক সাগর: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে অভূতপূর্ব অবদান রেখে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com