খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পার্লামেন্টে শোক প্রস্তাব গৃহীত

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট:বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভা—উভয় কক্ষেই আনুষ্ঠানিক শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ভারতীয় পার্লামেন্টের অধিবেশনে এই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন পৃথকভাবে খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠ করেন। কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাবেক সরকার প্রধানের মৃত্যুতে ভারতের আইনসভার দুই কক্ষেই এমন সম্মান প্রদর্শন দুই দেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লোকসভার অধিবেশনে স্পিকার ওম বিড়লা খালেদা জিয়াসহ ভারতের আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে শোকবার্তা পাঠ করার সময় বলেন, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অন্যদিকে রাজ্যসভার অধিবেশনে চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং উপস্থিত সকল সদস্য দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে প্রয়াত এই নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালনকালে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন তার বক্তব্যে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক পটভূমি সংক্ষেপে তুলে ধরেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, সেক্রেটারি জেনারেলের মাধ্যমে প্রয়াত খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের কাছে ভারতের পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সহানুভূতির আনুষ্ঠানিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন, যার পর থেকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর শোক প্রকাশ করে আসছে।

ভারতের পার্লামেন্টে এই শোক প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টি বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এটি কেবল একজন শীর্ষ নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশের প্রতি ভারতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রতিফলন।

অধিবেশন শেষে ভারতের পার্লামেন্টের রেকর্ডবুকেও এই শোক প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার অকাল প্রয়াণে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, ভারতের এই পদক্ষেপ তাকে আরও সম্মানিত করল।

About dainiksatkhira24

Check Also

জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে বাবা-মাকে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

Spread the loveডেস্ক রিপোর্ট: জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর বলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com