
জি এম মুজিবুর রহমান: আশাশুনি উপজেলার কুল্যায় বেতনা নদীর ধারে ফেলে রাখা নদী খননের অতিরিক্ত মাটি বৈধ ভাবে ক্রয়ের পরও ক্রেতাকে মাটি নিতে বাধার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দু’দফা মাটি কিনেও মাটি না পেয়ে ভোগান্তিতে রয়েছে ক্রেতা। মাটি না সরানোয় ঘেরের মাছের ক্ষয়ক্ষতিতে সর্বশান্ত হচ্ছে অসহায় মুনছুর আলী।
কুল্যা গ্রামের মুনসুর আলীর স্ত্রী মোমেনা খাতুন বাপাউবো সাতক্ষীরার অধীন ১, ২, ৬-৮ এবং ৬-৮ (এক্সটেনশন) এর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বেতনা নদী পুনঃ খননে উত্তোলিত অতিরিক্ত মাটি বিধি মোতাবেক ক্রয়ের জন্য সাতক্ষীরা পাউবো-২ বরাবর আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে মাটির মূল্য ও ভ্যাট বাবদ ১৬ হাজার ১২৫ টাকার চালান জমা প্রদান করেন। ২৫/৭/২৪ তাং উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আশিকুর রহমান পি-৯/১০২৯ নং স্মারকে ৩০ হাজার ঘনফুট মাটি অপসারনের অনুমতি প্রদান করেন। দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের কারনে মাটি অপসারনে ব্যর্থ হয়ে পরবর্তীতে আবহাওয়া অনুকুল হলে মাটি সরানোর জন্য মোমেনা খাতুন জেলা প্রশাসক বরাবর ২৭/১১/২৪ তাং আবেদন করলে এডিসি (রাঃ) কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১১/১২/২৪ তাং রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাশুনিকে দায়িত্ব দেন। ইউএনও ২১/১২/২৪ তাং উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী পাউবো আশাশুনিকে প্রেরন করেন। কিন্তু এরপর থেকে নানা কথা বলে শুধু সময় ক্ষেপন করা হয়েছে। অসহায় পরিবারটি কেবল নাজেহাল হচ্ছে। এমনকি তাদেরকে টালবাহনার এক পর্যায়ে মাটি অন্য কারো দেয়া হয়েছে বলে তাদের ধারনা। কেননা সেই মাটি ট্রলি ভরে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। তাদের আকুল আবেদন হয় মাটি দেয়া হোক নতুবা তাদের টাকা ফিরিয়ে দেয়া হোক।
মুনছুর আলী আরও জানান, তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে ৩ বিঘা জমি এবং পরবর্তীতে ৯ বিঘা জমি, সবশেষ নদী খননের পর ৭ বিঘা জমি ডিসিআর নিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। খননকৃত মাটি ঘেরের স্থানে ফেলানোয় মাছ চাষে বিঘ্নতার সৃষ্টি হচ্ছে। এবছর তার ২০০ পিছ ভেটকি ও বহু বাগদা-ছাটি মারা যাওয়ায় কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। গত বছরও একই ভাবে মাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তার দুবার ক্রয়কৃত মাটি নিতে দিলনা, ৩য় বার আবেদন করলেও না দিয়ে অন্যদেরকে দেয়া হয়েছে। ঘেরের মধ্যে আমার নিজের মাটি সরাতে গেলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে ঘের পরিচালনা যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি পানি সমস্যায় মাছ মারা যাচ্ছে। এব্যাপারে পাউবোর এসডি এর মোবাইলে বারবার রিং করা হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
