Breaking News

এবার যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো হুথি বিদ্রোহীরা

Spread the love

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে যোগ দিয়ে দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলো।

রয়টার্স ও এএফপি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইয়েমেন থেকে ধেয়ে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করার পরপরই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় কাজ শুরু করে। হামলার সংকেত পাওয়ার পর আইডিএফ সারা দেশে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও প্রায় ১৫ মিনিট পর পরিস্থিতি নিরাপদ ঘোষণা করে তাদের ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়।

এই হামলার ঠিক আগেই ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর হুথি উপদলের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তাঁরা সরাসরি এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করবেন।

হুথিরা সুনির্দিষ্ট কয়েকটি শর্তে সরাসরি সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে— যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে অন্য কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যোগ দিলে, ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিকূল কর্মকাণ্ডে লোহিত সাগর ব্যবহার করা হলে অথবা ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে। ইয়াহিয়া সারি সাফ জানিয়েছেন যে, তাঁদের ‘আঙুল এখন ট্রিগারে’ রয়েছে এবং ইরান, ফিলিস্তিন, গাজা, ইরাক ও লেবাননের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে তাঁরা এই পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবেন না।

হুথিরা মূলত ইয়েমেনের শিয়া মুসলিম সংখ্যালঘু ‘জাইদি’ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠী। তাঁরা নিজেদের ইরান-নেতৃত্বাধীন ‘অক্ষশক্তি’ বা ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে দাবি করে, যার মধ্যে হামাস এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

নব্বইয়ের দশকে আত্মপ্রকাশ করা এই গোষ্ঠীটি ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত, যা তাদের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন আল-হুথির নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে গোষ্ঠীটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন হুসেইন আল-হুথির ভাই আব্দুল মালিক আল-হুথি। ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা এখন সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে নতুন মাত্রা লাভ করল।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে আরও বহুমুখী ও বিপজ্জনক করে তুলেছে। এতদিন এই সংঘাত মূলত ইসরায়েল, ইরান ও লেবানন সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও হুথিদের সরাসরি অংশগ্রহণ লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইয়েমেনের এই পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দেয়, তবে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, হুথিদের এই ‘সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ’ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে কি না।

সূত্র: বিবিসি

About dainiksatkhira24

Check Also

পাকিস্তান সফর বাতিল, টেলিফোনেই চলছে শান্তি আলোচনা: ট্রাম্প

Spread the love আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান সফর আকস্মিকভাবে বাতিল করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com