৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বা জোয়ারাধার কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে যুব পানি কমিটি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, নদী সচল থাকা অবস্থায় টিআরএম চালু করা না হলে আগামী এক-দুইটি শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই নদীতে আবারও পলি জমে নাব্যতা কমে যেতে পারে। এতে সম্প্রতি ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুফলও দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরে উত্তরণের আঞ্চলিক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯০-এর দশক থেকে সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, তালা, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর এলাকা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। এতে অববাহিকার ৬ লাখের বেশি মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিভিন্ন সময়ে নদী-খাল খনন, স্লুইসগেট নির্মাণ ও উপকূলীয় বাঁধ সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতি বছর বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলি জমছে। এতে উজানের অংশ ভরাট হয়ে নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। এর সঙ্গে নদী-খাল দখল, অনিয়ন্ত্রিত চিংড়ি চাষ এবং স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি প্লাবিত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়ে অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটার রিসোর্স প্ল্যানিং ইনস্টিটিউটের আওতাভুক্ত আইডব্লিউএমের সমীক্ষা এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, পলিবহুল এ অঞ্চলে শুধু নদী খনন করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে বিলের উচ্চতা বাড়বে এবং নদীতে পলি জমার চাপ কমবে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এ বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকার সুখদেবপুর, টিকেট, ঝিলমারী, দুর্গাপুর, শ্রীরামপুর, বাগমারা, গোবিন্দপুর, হাজীখালী, আমোদখালী, চাপড়া ও মাটিয়াডাঙ্গা এই ১১টি বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের নির্দেশনা রয়েছে। আইডব্লিউএমের সমীক্ষা অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পুনঃভরাটের হার ৬০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।তবে যুব পানি কমিটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় পোল্ডার নম্বর ১, ২, ৬-৮ ও ৬-৮ (সম্প্রসারণ)-এর জন্য ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চার বছর মেয়াদি যে প্রকল্প সম্প্রতি শেষ হয়েছে, তাতে টিআরএম রাখা হয়নি। ফলে নদী সচল রাখার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় মৎস্যঘের ও ভেড়ির কারণে অনেক জায়গায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ রয়েছে। ফলে নদী-খাল খনন বা বাঁধ সংস্কার করলেও পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামোগত প্রকল্পের পাশাপাশি পানি চলাচলের সব বাধা দূর করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকার নির্ধারিত বিলে দ্রুত টিআরএম চালু, পানি নিষ্কাশনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর, নদী-খাল দখলমুক্ত করা এবং মৎস্যঘেরের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া পানি চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে স্থানীয় জনগণসহ সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের কার্যকর অংশগ্রহণ ও সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে যুব পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য সাজিদুল ইসলাম, করিমুন নেছা শান্তা, লামিয়া সুলতানা, রাবিয়া খাতুন, আজমিরা খাতুন, আবু তাহের ও মিলন কুমার উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া উত্তরণের কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন, কেন্দ্র পানি কমিটির সদস্য মীর জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বাবু, উত্তরণের নাজমা আক্তার ও প্রতিনিধি গোলাম হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

About dainiksatkhira24

Check Also

সাতক্ষীরায় নদীকৃত্য দিবস পালিত দখল-দূষণমুক্ত জীবন্ত নদীর দাবি

Spread the loveমো মোকাররাম বিল্লাহ ইমন :নদী বাঁচাও—প্রকৃতি ও মানুষ বাঁচাও” এবং “দখল-দূষণমুক্ত প্রবাহমান জীবন্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com