
রঘুনাথ খাঁ: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার
পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান
সানার ছেলে মানসিক রোগী ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে
শামীমকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টি করে তিন
দফায় পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে
আত্মসমর্পণকারি আসামী যুবদল নেতা সাদিকুল
ইসলাম ভদুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের
রিমাণ্ড আবেদন জানানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারি
কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক আল আমিন
রবিবার আদালতে এ আবেদন জানান।
সাদিকুল ইসলাম ভদু দেবাহাটা উপজেলার পারুলিয়া
শেখপাড়ার শওকত আলীর ছেলে।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক
আল আমিন জানান, বড় শান্তা গ্রামের সামছুর রহমান
সানার ছেলে ওয়াহিদুজ্জামানকে পিটিয়ে হতার ঘটনায়
দায়েরকৃত মামলার ২ নং আসামী সাদিকুল ইসলাম ভদু
গত ২৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন
করেন। আদালত তার আবেদন না’মঞ্জুর করে তাকে জেল
হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি তিনি অবহিত
হওয়ার পর উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের সাথে কথা বলেন। এ ধরণের
একটি স্পর্শকাতর মামলায় তিনি ২ নং আসামী। তাই
মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার
প্রয়োজন। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবার
আদালতে পাঁচ দিনের রিমাণ্ড আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রতিবেশী আবুল কাশেমের
মেয়ে মোসলেমা, ছেলে হোসেন আলী ও একই এলাকার
মাসুদের মোবাইল কল রেকর্ডে ধারণকৃত ধর্ম
অবমানারার অভিযোগের সূত্র ধরে গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায়
স্থানীয় জামায়াত অফিসের সামনে থেকে সদলবলে
ওয়াহেদুজ্জামান ওরফে মামীমের বাড়িতে হামলা, ১৩ অক্টোবর
সন্ধ্যায় কুলিয়ার ডাঃ এমএ সবুরের ক্লিনিকে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও একইদিনে পারুলিয়া থেকে
মিছিল নিয়ে সখীপুর হাসপাতালের পিছনের দরজা ভেঙে
সব সৃষ্টি কওে পুলিশ, আনছার ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের
উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন ওয়াহেদুজ্জামানের উপর
নৃশংস নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায়
তার ভাই আব্দুল জলিল বাদি হয়ে ফজলুল হক আমিনি, যুবদল
নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু, মোক্তার খান ও আসাদুল
মোল্লাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২৫০
জনের বিরুদ্ধে ১৫ অক্টোবর থানায় একটি হত্যা মামলা
দায়ের করেন। এ ঘটনায় ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার খান, ১৬
অক্টোবর সকালে আসাদুল মোল্লা ও ১৭ অক্টোবর ফজলুল হক
আমিনী গ্রেপ্তার হন। পরদিন তিনি আদালতে
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
