
মোঃ আলফাত হোসেনঃ
এক সময় শীত এলেই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় গ্রামগুলোতে খেজুরের রস ছিল মানুষের নিত্যদিনের আনন্দের অংশ। ভোর হওয়ার আগেই গাছিরা খেজুর গাছে হাঁড়ি ঝুলিয়ে সংগ্রহ করতেন মিষ্টি রস। সেই রস থেকে তৈরি হতো গুড়, পিঠা-পুলি ও নানা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আজ সেই চিত্র প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি এবং পেশাগত অনাগ্রহের কারণে শ্যামনগরে খেজুর গাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে শীত মৌসুমে গ্রামজুড়ে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির উৎসবমুখর পরিবেশ থাকত, এখন সেখানে সেই দৃশ্য খুবই বিরল।
কৈখালী ইউনিয়নের প্রবীণ গাছি আব্দুল করিম জানান, একসময় শীতকাল মানেই ছিল তাদের ব্যস্ত সময়। নিয়মিত রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করে সংসার চলত। কিন্তু বর্তমানে গাছ কমে যাওয়া এবং এই পেশায় নতুনদের অনাগ্রহের কারণে সেই জীবিকা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের মতে, লবণাক্ত পানির প্রভাবে খেজুর গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি এই পেশায় পরিশ্রম ও ঝুঁকি বেশি হলেও আর্থিক লাভ তুলনামূলক কম হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছে।
এ বিষয়ে সামাজিক সংগঠন সুন্দরবন ইয়ুথ ফ্রেন্ডশীপ-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু ইছা বলেন, খেজুরের রস শুধু একটি মৌসুমি পানীয় নয়, এটি এ অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। এই ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে গ্রামবাংলার একটি মূল্যবান পরিচয়ও মুছে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, খেজুরের রসের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হলে পরিকল্পিত উদ্যোগ জরুরি। খেজুর গাছ রোপণ কর্মসূচি, গাছিদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা গেলে আবারও এই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে শ্যামনগর উপকূলীয় অঞ্চলে আবারও ফিরে আসবে খেজুরের রসের সেই সোনালি দিন।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
