Breaking News

পাইকগাছায় বাঁশের সাঁকো পারাপার একমাত্রই ভরসা দু’পাড়ের মানুষের

Spread the love

শাহরিয়ার কবির:বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা নদীপাড়ের মানুষের। অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হয় এই সাঁকোর উপর দিয়ে।খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গড়ের আবাদ সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সামনে নৈর নদীর ওপর রয়েছে নড়বড়ে এই সাঁকো। সংস্কারের অভাবে সাঁকোটি এখন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে।প্রতিদিন উত্তর গড়ের আবাদ ও পূর্বগজালিয়া গ্রামের শত শত মানুষ চলাচল করেন এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও রোগীরা। দীর্ঘদিনেও সেতু তৈরি না হওয়ায় কিংবা কোনো সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষে কোনো খোঁজ রাখেনি কেউ। তাছাড়া প্রতিনিয়তই এই সাঁকোতে দুর্ঘটনা ঘটছে।

কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও সময়মতো পরিবহণের ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো বাজারে পৌঁছানো যায় না। ফলে চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রায় ২ হাজার মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। তাই দ্রুত সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের জেলা কিংবা উপজেলা সদরে যাতায়াতের সহজ পথ হলো পূর্ব গজালিয়া ইটের সলিং রাস্তা। প্রতিদিন শত শত মানুষ এ বাঁশের সাঁকো পার হয়ে পূর্ব গজালিয়ার ডাবল ইটের পাকা রাস্তায় উঠেন।

টানা বৃষ্টিতে সাঁকোটি উপর কোমর পানি বর্তমানে প্রায় ভেঙে পড়ার অবস্থায় রয়েছে।উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামের প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকার দুই হাজার মানুষ সম্পূর্ণভাবে এই সাঁকোর উপর নির্ভরশীল। এখানে নেই কোনো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পূর্ব গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হলে বাধ্য হয়ে বিপজ্জনক সাঁকো পার হতে হয়। শুকনো মৌসুমে অনেকে বাদুড়িয়া ব্রিজ বা চৌমুহনী বাজার ঘুরে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যান। এছাড়া স্থানীয় গাড়িচালকরা (মোটরভ্যান, নসিমন, করিমন) রাস্তার মাথায় কিংবা অন্যের বাড়িতে গাড়ি রেখে সাঁকো পার হয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন।

এলাকার সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে গ্রামের মানুষ নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেন। এরপর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জোয়াদুর রসুল বাবুর সময় সরকারি বরাদ্দে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আক্কাস ঢালী কিছু পাকা পিলার ও কাঠ দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করেন। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই সাঁকোটি আবার ভেঙে যায়। পরবর্তীতে পুনরায় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন পারাপারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীনের সু-দৃষ্টি কামনায় উল্লেখিত স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানান এলাকা বাসি।

About dainiksatkhira24

Check Also

অর্থের অভাবে নিভে যাচ্ছে কলমযোদ্ধা ফসিয়ারের জীবনপ্রদীপ

Spread the loveপাইকগাছা প্রতিনিধি: এ যেন এক নির্মম সময়ের গল্প। যে মানুষটি একসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com