
রঘুনাথ খাঁ ঃ বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে তিন লক্ষাধিক
টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের প্রধান ইয়ার আলী ও
তার সহযোগী সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত
প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে। বৃহষ্পতিবার মামলার
তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মাহাবুবর রহমানের ৫
দিনের রিমাণ্ড আবেদন শুনানী শেষে সাতক্ষীরার আমলী আদালত-১ এর
বিচারক শফিকুল ইসলাম এ রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।
ইয়ার আলী(৪৪) কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর
গ্রামের আব্দুল জব্বার তরফদারের ছেলে ও সাইফুল ইসলাম বিষ্ণুপুর
ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের সামছুর রহমানের ছেলে।
সাতক্ষীরা আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ বিকেলে কালিগঞ্জের
বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়ির পাশে
ফাঁকা জায়গায় পশ্চিম মৌতলা গ্রামের বিকাশ এজেন্ট মোকলেছুর
রহমানের মাথায় রড দিয়ে মাথা ফাটিয়ে তিন লাখ ১১ হাজার টাকা
ছিনতাইয়ের ঘটনায় তারই দায়েরকৃত ১০ মার্চের দস্যুতার
মামলায়(জিআর-৪১/২৬, ধারা-৩৯৪) ইয়ার আলী, পলাশ তরফদার, বিল্লাল গাজী
ও আলোক গাজীকে পলাতক দেখানো হয়। তবে এজাহার বহির্ভুত
কৃষ্ণনগর গ্রামের নুরুল হক সরদারের ছেলে শিমুল হোসেনকে গ্রেপ্তার
দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। গত ২৭ মার্চ অস্ত্র ও মাদকসহ র্যাব ও
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা বিকাশের টাকা
ছিনতাই মামলার প্রধান আসামী ইয়ার আলীকে ও গত ৩ এপ্রিল একটি
মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা সাইফুল ইসলামকে
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্তকাাির কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার
উপপরিদর্শক মাহাবুবর রহমান গত ৭ এপ্রিল আদালতে পাঁচ দিন করে
রিমাণ্ড আবেদন করেন। বৃহষ্পতিবার দুপুরে উভয়পক্ষে শুনানী শেষে বিচারক
শফিকুল ইসলাম তাদের প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে রিমাণ্ড শুনানীতে অংশ নেন আদুেৈতর পুলিশ উপপরিদর্শক
শামীমুর রহমান ও আসামীপক্ষে ছিলেন অ্যাড. অনুপ কুমার কর্মকার ও
অ্যাড. ইকবাল হোসাইন।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মাহাবুবর রহমান জানান,
আদালতের লিখিত আদেশ হাতে পাওয়ার পর বিকেলে আদালত থেকে ইয়ার
আলী ও সাইফুলকে কালিগঞ্জ থানা হেফাজতে নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের প্রধান ইয়ার আলীকে গত ২৭ মার্চ
রাত সাড়ে সাতটার দিকে তার নিজ গ্রাম কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর
ইউনিয়নের নিজ গ্রাম শংকরপুর থেকে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে
গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল,
পাঁচ রাউণ্ড গুলি ও ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের
ঘটনায় খুলনা র্যাব-৬ এর সিপিএ মোঃ মুনসুর আলী বাদি হয়ে গত ২৮
মার্চ ইয়ার আলীর নাম উল্লেখ করে ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনে ও ইয়াবা
উদ্ধারের ঘটনায় কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সরোয়ার হোসেন বাদি
হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কালিগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা
মামলা দায়ের করেন। পরে ইয়ার আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের
রিমাণ্ডে নেওয়া হয়। কালিগঞ্জ থানার একটি দস্যুতার মামলায় গত মঙ্গলবার
দুপুরে ঢাকা থেকে ইয়ার আলীর ভাই বাহার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার
বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি, ডুমুরিয়া, আশাশুনি ও কালিগঞ্জে
সাতটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
