Breaking News

ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় বৈঠক ডেকেছেন স্টারমার

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আজ সোমবার এক বিশেষ জরুরি বৈঠক ডেকেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘কোবরা’ নামের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার র‍্যাচেল রিভস এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি উপস্থিত থাকবেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

উদ্ভূত পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এবং জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার অজুহাতে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালান, তবে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পাল্টা আঘাত হানবে।

এই হুমকির ফলে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারগুলো এক চরম অস্থিরতার মুখোমুখি হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশটিকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ব্রিটিশ সরকারি বন্ডের দর দ্রুত কমতে থাকায় লন্ডনের নীতিনির্ধারকরা বেশ উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস জানিয়েছেন যে, ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর এই যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট প্রভাব এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। যদিও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে বড় ধরনের সাশ্রয়ী ব্যবস্থার দাবি উঠেছে, তবে তিনি আপাতত তা নাকচ করে দিয়েছেন।

রিভস স্পষ্ট করেছেন, সরকার ঢালাও কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বরং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক কিছু সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি শিল্প খাতের সুরক্ষা নিয়েও ‘কোবরা’ বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ব্রিটিশ প্রশাসন মূলত এই যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত হতে যাওয়া সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী মন্দা ও জ্বালানি ঘাটতি রুখতে একটি কার্যকর কৌশল প্রণয়নের চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি বর্তমানে এক নাজুক সময় পার করছে এবং ইরান যুদ্ধের বিস্তৃতি ঘটলে দেশটির কোষাগারের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরের বাণিজ্য পথগুলো ঝুঁকির মুখে পড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাঁর মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌম অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আজকের এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি আমদানির নতুন নীতিমালা নির্ধারিত হতে পারে।

About dainiksatkhira24

Check Also

পাকিস্তান সফর বাতিল, টেলিফোনেই চলছে শান্তি আলোচনা: ট্রাম্প

Spread the love আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান সফর আকস্মিকভাবে বাতিল করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com